নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চালের ড্রাম, আটা ও মশলার ডিব্বার মধ্যে থরে থরে সাজানো কার্তুজ। বক্স খাটের মধ্যে সারি দিয়ে সাজানো দেশি-বিদেশি বন্দুক ও ম্যাগাজিন। ঘরের শোকেস, আলমারি সহ বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার অ্যান্টিক কয়েন। কোভিড কালেও এইসব কয়েন বিক্রির আড়ালেই চালিয়েছিলেন অস্ত্র বিক্রির রমরমা কারবার। রহড়ার অভিজাত রিজেন্ট পার্ক এলাকার ফ্ল্যাট থেকে ধৃত মধুসূদন মুখোপাধ্যায় ওরফে লিটনের কর্মকাণ্ডে চমকে গিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে মুঙ্গেরের অস্ত্র তৈরির কারিগর কাম সরবরাহকারী পুলিসের জালে ধরা পড়ে বলেছিল, ‘আমার কাছে আর কতটুকু মাল আছে? অপেক্ষা করুন ভাণ্ডার দেখাব।’ পুলিস প্রথমে তার কথাকে খুব একটা আমল দেয়নি। কিন্তু তার কাছ থেকে মধুসূদনের নাম পেয়েই চমকে ওঠেন গোয়েন্দারা। কারণ, এই মধুসূদনই কয়েক মাস আগে ফ্ল্যাটের আবাসিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অস্ত্রের ছবি পোস্ট করে ডিলিট করেছিলেন। ইনপুট মিলে যেতেই তদন্তকারীরা সতর্ক হয়ে যান। কিন্তু লিটনের বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডার দেখে সত্যিই তাঁরা চমকে ওঠেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনেক রাত পর্যন্ত জেগে, বেলায় ঘুম থেকে উঠতেন মধুসূদন। সোমবার সকালে পুলিস দেখে প্রথমে হকচকিয়ে যান। কিন্তু পালানোর পথ নেই বুঝে, তিনি নিজেই পুলিসকে অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ দেন। ঘরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে বেরিয়ে আসে অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মধুসূদন সাধারণ বাজার করার থলের মধ্যে মুদি দোকানের সামগ্রী ও কাঁচা সব্জি মধ্যে অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনে পৌঁছে যেত। অস্ত্র ক্রেতাদেরও ওইরকম হাতে ঝোলানো বাজারের ব্যাগ আনতে বলতেন। এরপর শুধু ব্যাগ বদল হতো। টাকা নিতেন অ্যাকাউন্টে। বড় ডিলের ক্ষেত্রে তিনি পার্টিকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিতেন।