Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এটিএমে আটকে গিয়েছে কার্ড, হেল্পলাইনে ফোন করে গায়েব টাকা

এটিএমে আটছে যাচ্ছে কার্ড। বেরচ্ছে না টাকা। মেশিনের উপর মার্কার পেন দিয়ে লেখা হেল্পলাইনে ফোন করে টাকা খোয়ালেন অনেকেই।

এটিএমে আটকে গিয়েছে কার্ড, হেল্পলাইনে ফোন করে গায়েব টাকা
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এটিএমে আটছে যাচ্ছে কার্ড। বেরচ্ছে না টাকা। মেশিনের উপর মার্কার পেন দিয়ে লেখা হেল্পলাইনে ফোন করে টাকা খোয়ালেন অনেকেই। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকার বাঁধাঘাটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে। বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

Advertisement

হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বাঁধাঘাটের ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে টাকা তুলতে আসেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। কার্ড মেশিনে ঢোকাতেই দেখা দেয় সমস্যা। টাকা তোলার সব প্রক্রিয়া করার পরও টাকা বেরয়নি। কার্ড বের করতে গেলে দেখা যায়, সেটি আটকে গিয়েছে। এটিএমের ভিতর বোর্ডে লাগানো ব্যাঙ্কের হেল্পলাইনে ফোন না করে মেশিনের উপর মার্কার পেন দিয়ে লেখা নম্বরে ফোন করেন তিনি। অভিযোগকারীর বক্তব্য, মেশিনটি খুঁটিয়ে দেখার জন্য ফোনের অন্যপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি তাঁকে ভিডিও কল করতে বলেন। অভিযোগকারী তাঁর কথামতো ভিডিও কল করে মেশিনটি দেখান। এরপর কথায় কথায় তাঁর পাসওয়ার্ড জেনে নেন। রে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তিন ধাপে উঠে যায় তিরিশ হাজার টাকা। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ করেন। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি থানা। কিন্তু রবিবার আবার একই ঘটনা ঘটে কয়েকজনের সঙ্গে। সকলেরই কাছে এটিএমের পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন অভিযোগ করেন থানায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসাররা ওই এটিএমে এসে দেখেন, মেশিনের উপর যে ফোন নম্বর লেখা রয়েছে, সেটি সাইবার জালিয়াতদের। এটিএমটিও ঠিকমতো কাজ করছে না। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি জানান সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। রক্ষীহীন ওই এটিএমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাওয়া হয়। তা বিশ্লেষণ করে দুই সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। যাদের মেশিনের উপর নম্বর লিখতে দেখা গিয়েছে।
তদন্তে নেমে অফিসারদের অনুমান, সাইবার জালিয়াতরা স্ক্যামার বসিয়েছে ওই মেশিনে। ওইদিনই তারা মেশিনের উপর হেল্পলাইন নম্বর লিখেছিল। মেশিনে কার্ড ঢোকালেই কার্ডের নথি স্ক্যামারে চলে আসছিল। স্ক্যামার থেকে তথ্য বের করে ক্লোন কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছে তারা। যে কারণে শুধু পাসওয়ার্ড জানতে চেয়েছিল তারা। এর পিছনে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া গ্যাং রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তারা এই কায়দায় টাকা হাতিয়ে থাকে। জালিয়াতদের দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের। 

সম্পর্কিত সংবাদ