নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্ক করে রেখেছিলেন মালিক। সকালে উঠে দেখেন গাড়ি গায়েব। বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পর্ণশ্রী থানা এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের মোটরযান চুরি দমন শাখা। কীভাবে আস্ত গাড়ি চুরি করল অভিযুক্তরা? পুলিশি প্রশ্নের জবাবে ধৃতরা জানিয়েছে, মল্লিকবাজারের গাড়ি মেরামতির মার্কেট থেকে একটি ‘মাস্টার-কি’ বানায়। খরচ পড়ে মাত্র ২৫০ টাকা। তা নিয়েই প্রতি রাতে গাড়ি চুরি করতে বের হত অভিযুক্তরা।
বেলেঘাটা থানা এলাকার হেমচন্দ্র নস্কর রোডের বাসিন্দা অভিষেক চৌধুরী। ৯ জানুয়ারি রাত ১০টা নাগাদ তিনি তাঁর সেকেন্ড হ্যান্ড ইকো গাড়ি বাড়ির সামনের রাস্তায় পার্ক করে রাখেন। পরের দিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কাজের জন্য সেই গাড়ি নিয়ে বের হতে যান। তখনই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। দেখেন, গাড়ি নেই। সঙ্গে সঙ্গে বেলেঘাটা থানায় গিয়ে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন অভিষেক। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তিনি। তাতে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেওয়ার ছবি ধরা পড়ে। কিন্তু, দুঃসাহসিক চুরির নেপথ্যে কে বা কারা? তদন্তে তাদের সন্ধান পাচ্ছিল না বেলেঘাটা থানা। লালবাজারের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করে গোয়েন্দা বিভাগ। মোটর যান চুরি দমন শাখার অফিসাররা বিভিন্ন গোপন সোর্স কাজে লাগায়।
প্রায় এক মাস পর অভিযুক্তদের সন্ধান পান গোয়েন্দারা। ৪ ফেব্রুয়ারি পর্ণশ্রী থানা এলাকার বিবেকানন্দ পল্লিতে হানা দিয়ে দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন তাঁরা। ধৃতদের নাম শুভময় সরকার (২৫) ও সুমিত দাস (২২)। তাদের লালবাজারের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা জানিয়েছে মল্লিকবাজারে তাদের যাতায়াত রয়েছে। এর আগেও বাইকের মাস্টার-কি বানিয়ে একাধিক বাইক চুরি করেছে। সেগুলি মল্লিকবাজারের মার্কেটে বিক্রি করত তারা। তারপর গাড়ির মাস্টার-কি তৈরি করে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু, ইদানীং গাড়ির লক অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির। গাড়ি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নতুন প্রযুক্তির গাড়ির চাবি বিশেষ সেন্সর থাকে। নকল চাবিতে সেই সেন্সর থাকে না। ফলে নকল চাবি দিয়ে কোনোভাবেই নতুন গাড়ি চুরি সম্ভব নয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই কারণেই বেলেঘাটার পুরানো গাড়িকে টার্গেট করেছিল দুষ্কৃতীরা।