নয়াদিল্লি: বিশ্বকাপ জয়ের এক বছর! ২০২৪ সালের ২৯ জুন ব্রিজটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে ট্রফি জিতেছিল ভারত। কাপ জয়ের সেই স্মৃতি এখনও টাটকা অধিনায়ক রোহিত শর্মার মনে। জিওহটস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘১৩ বছরের খরা কাটিয়ে ফের বিশ্বকাপ জয়ের রোমাঞ্চই ছিল আলাদা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান বলে কথা! বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের কেরিয়ারই তো এত বছর স্থায়ী হয় না। তার উপর আমি টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলাম ২০০৭ সালে। ফলে আমার প্রতীক্ষা ছিল আরও বেশি সময়ের। কাপ হাতে পাওয়ার পর মনে হচ্ছিল, এর থেকে মহার্ঘ কিছু হতে পারে না। সেই রাতে আনন্দে ঘুমোতেই পারিনি। কেমন যেন নার্ভাস লাগছিল। অসাড় লাগছিল পা।’
কতটা টেনশনে ছিলেন ফাইনালের আগে, তাও জানিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেন। তাঁর কথায়, ‘খুব চাপে ছিলাম। তবে তা বাইরে প্রকাশ করিনি। আমাদের সকাল সাড়ে আটটা বা ন’টায় মাঠে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি সকাল সাতটাতেই উঠে পড়েছিলাম। আমার ঘর থেকে মাঠ দেখা যাচ্ছিল। তাতে আরও উদ্বেল হচ্ছিল মন।’ শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ১৭ রান। হার্দিক পান্ডিয়ার সেই ওভারে ওঠে মাত্র ৮। প্রথম বলে ডেভিড মিলারের শট অনবদ্য দক্ষতায় লং-অফে তালুবন্দি করেন সূর্যকুমার যাদব। রোহিতের স্মৃতিচারণ, ‘ক্যাচ নেওয়ার পর আম্পায়াররা যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে বার্তা পাঠান। তখন টেনশনে সবার অবস্থা খারাপ।’
ফাইনালে ৫৯ বলে ৭৬ করে ম্যাচের নায়ক বিরাট কোহলি। সেই ইনিংস সম্পর্কে রোহিতের মূল্যায়ন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আবেগ ও চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে অভিজ্ঞতাই। বিরাটের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তার আগে রান পাচ্ছিল না। কিন্তু মোক্ষম সময়ে দুরন্ত ইনিংস উপহার দেয়।’ টি-২০ এবং টেস্ট ক্রিকেটকে ইতিমধ্যে বিদায় জানিয়েছেন রোহিত ও বিরাট। এখন দু’জনেরই লক্ষ্য ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপ।