কেপ ভার্দে- ০ : সৌদি আরব- ০
কেপ ভার্দে- ০ : সৌদি আরব- ০
হিউস্টন: কেরিয়ারের মাঝপথেই ফুটবল ছেড়ে ব্যাংকিং সেক্টরে যোগ দিয়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের রবার্ট লোপেজ। কাজ খোঁজার তাগিদেই লিঙ্কডইনে খোলেন প্রোফাইল। সেখানেই একদিন পর্তুগিজ ভাষায় একটি মেসেজ পান। তবে ভাষা বুঝতে না পারায় তা এড়িয়ে যান এই ডিফেন্ডার। কয়েকদিন বাদে ফের একই প্রোফাইল থেকে আসে বার্তা। এবার ইংরেজিতে তা পাঠানো হয়। তাতে লেখা, ‘কেপ ভার্দের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চাইলে যোগাযোগ কর।’ মেসেজটি করেছিলেন সংশ্লিষ্ট দেশের তৎকালীন কোচ রুই আগুয়াস। প্রথমে গোটা বিষয়টা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও, শেষ পর্যন্ত এই সূত্র ধরেই দেশের জার্সি গায়ে চাপান লোপেজ। আর সেই লিঙ্কডইনের মাধ্যমেই ফুটবলার চয়ন করা কেপ ভার্দে শনিবার গড়ল ইতিহাস। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় ড্রয়ে কাপযুদ্ধের পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করল পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। বিশ্বকাপের আসরে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করল তারা। আর জাতীয় দলের এই সাফল্যের দিনে ফের একবার চর্চায় ‘প্রজেক্ট লিঙ্কডইন’।
চলতি বিশ্বকাপে সারপ্রাইজ প্র্যাকেজ হিসেবে নিজেদের মেলে ধরেছে কেপ ভার্দে। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দেয় তারা। তিনকাঠির নীচে একের পর এক দুরন্ত সেভে রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে আসেন ভোজিনহা। পরের দু’টি ম্যাচেও একইভাবে ছন্দ মেলে ধরেন এই ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক। তবে শুধু ভোজিনহা নয়, এই দলের সিংহভাগ ফুটবলার বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরেই কাটিয়েছেন। ২৬ জনের দলের মধ্যে ১৪ জন তো কেপ ভার্দেতে জন্মাননি। তবে তাঁদের সকলকে এক ছাতায় তলার আনার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আর এক প্রাক্তন কোচ লুসিও আন্তুনেস। ২০১০ সালে তিনি প্রথম বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলানোর ব্যাপারে ফেডারেশন কর্তাদের রাজি করান। পরের কয়েক বছর তাঁর ও রুই আগুয়াসের হাত ধরে কেপ ভার্দের জার্সি গায়ে চাপান রবার্তো লোপেজ, স্টিভেন মোরেইরা, ডেরয় দুয়ার্তেরা। এরপর ২০২০ সালে দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক বাধা টপকে দলেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে তুলে আনেন কোচ বুবিস্তা।
বিশ্বকাপের অভিষেকেই নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত করে আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে কেপ ভার্দে। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা। মেসির বিরুদ্ধে খেলতে নামাটা যে তাদের কাছে সম্মানের, তা জানাতে ভোলেননি দলের কোচ বুবিস্তা। তবে স্কালোনি-ব্রিগেডের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত তাঁর ছেলেরা। বলেছেন, ‘আর্জেন্তিনার বিপক্ষে খেলতে পারাটা সম্মানের। ওই দেশের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অনেক কেপ ভার্দেইয়ান নাগরিক আর্জেন্তিনায় অভিবাসী হয়েছেন। তবে আমাদের লক্ষ্য, বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।’