নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুরের ধোবিঘাট থেকে শ্রীরামপুর পর্যন্ত ফেরি চলাচল করে। বহু বছর ধরে এভাবে গঙ্গা পারাপার করেন দু’পাড়ের মানুষ। এই ঘাট অনেক ইতিহাসের ইতিহাসের সাক্ষী। এক সময়ে এই ঘাটে জামা-কাপড় ধুইয়ে পরিষ্কার করত ধোপারা। সেই থেকেই এই ঘাটের নাম হয়ে যায় ধোবিঘাট। বছর চারেক আগে এই ঘাটে পুরনো কাঠের জেটির পাশে লোহার জেটি তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার। কাঠের জেটি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। শ্রীরামপুর থেকে বহু ছাত্র বারাকপুরের বিভিন্ন নামী স্কুলে পড়াশোনা করতে আসে। প্রতিদিন এই জেটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করেন। তাদের নিত্য যাতায়াত করতে হয় এই জেটি দিয়ে।
তৎকালীন জেলাশাসক অন্তরা আচার্যের উদ্যোগে লোহার জেটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অনুমতি না দেওয়ায় ওই নতুন জেটি থেকে ফেরি চলাচল শুরু করা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে তা তালা বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটি চালু করার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। অবশেষে সেই অনুমোদন মিলেছে। তারপরেই জেটি চালুর জন্য প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে নতুন জেটি চালুর জন্য বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড মাসে ভাড়া বাবদ পরিবহণ দপ্তরকে তিন লক্ষ টাকা দিতে বলেছে। সম্প্রতি এ নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে পরিবহণ দপ্তরের বৈঠক হয়েছে। খুব শীঘ্রই জেটি চালু হতে পারে বলে অনুমান প্রশাসনিক কর্তাদের।
নির্মীয়মাণ জেটির সামনে তালা লাগানো থাকলেও রেলিং টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন স্কুলে আসা পড়ুয়াদের মায়েরা। চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা। মাঝেমধ্যে সেনা অফিসাররা এসে বারণ করলে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়, ফের যে কে সেই অবস্থা! বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন জেটিতে ফেরি চলাচলের অনুমতি মিলেছে। খুব শীঘ্রই এটি চালু হবে। এ ব্যাপারে পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মাসে ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিতে হবে। সেইসঙ্গে গোটা ধোবি ঘাট এলাকা সুন্দর করে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে। বারাকপুরে তৈরি হয়েছে নতুন জেটি। -নিজস্ব চিত্র