নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন পর্ব শুরু হয়েছে। পরিষদীয় দলের পাশাপাশি ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় পার্টিও। ২০ জন বিদ্রোহী দলীয় সাংসদ ইতিমধ্যেই এনডিএ শরিক এনসিপিআইয়ে মিশে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের এহেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পূর্ণ নাটকীয় রূপ নিল শুক্রবার। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ওই বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ২০টি ‘ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন’ দাখিল করলেন তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি পিটিশন ২১ পাতার।
ভাঙন পর্বে তৃণমূলের অন্য পক্ষের অবস্থান জানতে চেয়ে এদিন অভিষেককে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ। সেইমতো শুক্রবার বিকাল ৫টায় সংসদ ভবনে লোকসভা স্পিকারের ঘরে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং মহুয়া মৈত্র। সংসদ ভবন চত্বরে অভিষেকের সঙ্গী ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েনও। বৈঠক শেষে বেরিয়ে অভিষেক বলেছেন, ‘একসঙ্গে দু’টো দলের সদস্য তো ওই এমপিরা থাকতে পারেন না। সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, তাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। ওই দলের নামও আমি কোনোদিন শুনিনি। কিন্তু অর্থের লোভে এবং নিজেদের পিঠ বাঁচাতে যে সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন, তা নিশ্চয় তৃণমূল ত্যাগের পরেই কার্যকর হয়েছে। অথচ তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচনে জিতেছেন। কিন্তু তৃণমূলেই যদি না থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ওই এমপিদের সাংসদ পদ ডিসকোয়ালিফাই হয়ে যাবে। সংবিধানের নিয়মও তেমন কথাই বলছে। যাবতীয় তথ্য আমরা লোকসভার স্পিকারের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই এমপিরা আগে সংবিধানের নিয়মকানুন ভালোভাবে পড়ুন।’
শুক্রবার ঘণ্টাখানেক অভিষেক সহ অন্য তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার। পরে অভিষেক দাবি করেছেন, ‘বিদ্রোহী সাংসদদেরও ফের ডেকে পাঠাবেন অধ্যক্ষ। তারপর আবারও তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।’ এদিন তৃণমূল সাংসদ তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘ওঁরা নাকি লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে আলাদা গ্রুপের আর্জি জানিয়েছেন। আলাদা গ্রুপ বলে কিছু হয় না। কোনো দলের দু’তৃতীয়াংশ চাইলে তবেই অন্য দলে সংযুক্তি সম্ভব। তাও হয়নি।’ শুক্রবার দিল্লিতে নেমে প্রথমে সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নিজের সরকারি বাসভবনে আসেন অভিষেক। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে যান পার্লামেন্টে। ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক সেরে তিনি ফিরে যান কলকাতায়।