Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ব্যক্তিগত বিপর্যয় ভুলে কানাডার নায়ক স্টিফেন

কানাডার স্টিফেন ইউস্তাকিওর একমাত্র গোলে ইতিহাস রচনা। জাতীয় নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি। কীভাবে বদলালো ফুটবলের দৃশ্যপট? বিস্তারিত পড়ুন।

ব্যক্তিগত বিপর্যয় ভুলে কানাডার নায়ক স্টিফেন
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইনগ্লেউড: বিশ্বকাপে আগে কখনও গ্রুপ পর্বের গণ্ডি টপকায়নি কানাডা। এমনকি অতীতের দু’টি আসরে (১৯৮৬ ও ২০২২) জয়ের মুখও দেখেনি তারা। এবার ইতিহাস বদলের অভিযানে রীতিমতো তাক লাগিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। নক-আউটে প্রথম জয়ের পর উৎসবে মেতেছেন কানাডাবাসী। রীতিমতো জাতীয় নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন স্টিফেন ইউস্তাকিও। রবিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সংযোজিত সময়ে তাঁর একমাত্র গোলই যে খুলে দিয়ে স্বপ্নের দরজা!

Advertisement

ম্যাচ শেষে স্টিফেনের চোখে জল। আর এই আনন্দাশ্রুর আড়ালে মিশে রয়েছে ২৯ বছর বয়সি মিডিওর ব্যক্তিগত জীবনের শোক ও সংঘর্ষ। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলছিলেন, ‘আমি যা কিছু করি, তা আমার পরিবারের জন্যই— আমার বাবা-মা, বান্ধবী, মেয়ের জন্য। তারাই আমার সবকিছু। মনে হচ্ছে, বাবা-মা যদি আজকের এই স্মরণীয় দিনটার সাক্ষী হতে পারতেন, তাহলে কত খুশিই না হতেন!’ আসলে এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে স্টিফেন হারিয়েছেন বাবা-মাকে। মা এসমেরালদা ২০২৩ সালে ক্যানসারে মারা যান। পরের বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন বাবা আর্মান্দো। ঘোর অনিশ্চয়তায় ঢেকে যায় স্টিফেনের ভবিষ্যৎ। তবে কঠিন সময়ে হাল না ছেড়ে আরও শক্তভাবে জাপটে ধরেন ফুটবলকে। বৃথা যায়নি তাঁর লড়াই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রাউন্ড অব ৩২-এ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্টিফেনের গোলে রচিত হয় ইতিহাস। জয়ের নায়কের কণ্ঠে একরাশ তৃপ্তি, ‘আমরা এই সাফল্যের জন্য কম পরিশ্রম করিনি। আমাদের দল সত্যিই স্পেশাল। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি।’
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডাকে খেলতে হবে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কোচ জেসি মার্স অবশ্য আশাবাদী। ফুটবলারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কানাডা ফুটবলের হিরো। কখনও নিজেদের উপর বিশ্বাস হারাওনি। এই লড়াইটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ