নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: ওবিসি জটের মাঝেই বড়সড় স্বস্তি রাজ্যের! কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় আপাতত হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওবিসি সংক্রান্ত আবেদনপত্রে শ্রেণি বিন্যাস বা ক্যাটেগরি উল্লেখ করা যাবে না। রাজ্যকে আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১০ সালে যাঁরা ওবিসি তালিকায় নথিভুক্ত ছিলেন, তাঁদের অধিকারও যে ক্ষুণ্ণ হবে না, তাও হলফনামায় উল্লেখ করতে বলা হয়েছে রাজ্যকে।
ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও রাজ্যের কলেজগুলিতে ভর্তির অনলাইন পোর্টালে ওবিসি ‘এ’ এবং ওবিসি ‘বি’ ক্যাটাগরির উল্লেখ রয়েছে। এমন অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছিল। আবেদনকারীরা বৃহস্পতিবার আদালতে বলেন, গত ১৭ জুন হাইকোর্ট পাঁচটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু, ভর্তির পোর্টালে ওবিসি ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ক্যাটেগরি ‘বি’ অনুযায়ী আবেদন নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওবিসি সংক্রান্ত মামলা এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। হাইকোর্টের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট যদি হস্তক্ষেপ না করে, তখন এই অভিযোগ তোলা যাবে। তাই ভর্তি প্রক্রিয়ায় আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। তবে কোনও ক্যাটেগরি ধরে আবেদন এখন নেওয়া হবে না। যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের আবেদন করতে দিতে হবে। রাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেন, ‘আদালত আশা করে ওবিসি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, রাজ্য তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। ভর্তি হোক বা নিয়োগ, রাজ্য সমস্ত ক্ষেত্রেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মানবে এটাই প্রত্যাশিত।'
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছে। তাছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত যে পোর্টাল প্রথমে খোলা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশের পরে তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এখনই ওবিসি-‘এ’ এবং ওবিসি-‘বি’ শ্রেণি বিন্যাস করা হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এরপরই বিচারপতি মান্থার পর্যবেক্ষণ, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যারা ওবিসি তালিকাভুক্ত ছিল, তাদের আবেদনও গ্রহণ করা হবে বলে আদালত আশা করছে। ৪ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলেছে হাইকোর্ট। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি।