ক্যাগের নজরে বেআইনি নির্মাণ, তালিকায় বাংলার ১৬টি পুরসভা
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে এবার দেশজুড়ে মাঠে নামছে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগ। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ২২টি রাজ্যের নির্বাচিত পুরসভায় পরিদর্শন চালিয়ে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য খুঁজবে ক্যাগের বিশেষ দল। তালিকায় রয়েছে এ রাজ্যের ১৬টি পুরসভা। অক্টোবরের শেষে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ২০২৭-এর বেশ কিছুটা সময় ধরে চলবে এই বিশেষ পর্যবেক্ষণ। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সুপারিশ দেবে ক্যাগ। যা পেশ হবে প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় এবং সেই রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে। এই বিশেষ কর্মসূচিতে এ রাজ্যে তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, সম্পত্তি কর নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে ক্যাগ। সেই মতো এ রাজ্যের সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিকে ক্যাগের প্রতিনিধিদের যথাযথ তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে ১৩ অক্টোবর চিঠি দিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এভাবে বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, সম্পত্তি কর নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্যাগের অডিট কার্যত অভূতপূর্ব।    

Advertisement

সূত্রের খবর, ক্যাগের এই কর্মসূচির কথা জানিয়ে রাজ্য সরকারেকে গত ৫ অক্টোবর চিঠি দেন পশ্চিমবঙ্গের এগজামিনার অব লোকাল অ্যাকাউন্টস। তাতে জানানো হয়েছে, এই কর্মসুচিকে সর্বভারতীয় ‘হরাইজন্টাল রিভিউ’ বলা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল, শিলিগুড়ি, দক্ষিণ দমদম, ডোমকল, হলদিয়া, হালিশহর, বরানগর, কৃষ্ণনগর, উলুবেড়িয়া, দার্জিলিং, উত্তরপাড়া-কোতরং, শ্রীরামপুর, বোলপুর, টাকি, কার্শিয়াং এবং কাঁথি পুরসভার ২০২১-২৬ পর্যন্ত বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন এবং সম্পত্তি কর নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে। বিভিন্ন পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পর্যালোচনার অন্যতম লক্ষ্য হল বাড়ি বা বহুতল নির্মাণের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে কি না এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হচ্ছে কি না ইত্যাদি যাচাই করা। একেবারে তৃণমূল স্তরে নথিপত্র খতিয়ে দেখবেন ক্যাগের প্রতিনিধিরা। সম্পত্তি করের ক্ষেত্রে করযোগ্য সম্পত্তির সঠিক নথিভুক্তি, কর নির্ধারণের পদ্ধতি, আদায়, বকেয়া রাজস্ব এবং সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে সম্পত্তি করের রেকর্ডও গুরুত্বের সঙ্গে ক্ষতিয়ে দেখা হবে।
বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন এবং সম্পত্তি কর—দুটিই পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম ও রাজস্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দুই ক্ষেত্রের ব্যবস্থাগত দুর্বলতা বা অনিয়মের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং সংশোধনের সুপারিশ করা ক্যাগের এই অডিটের মূল উদ্দেশ্য। আরও জানা গিয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে রাজ্যের এই ১৬টি পুরসভায় সম্পত্তি কর ও বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত ভালো কাজের নজিরের পাশাপাশি যদি কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, তারও উল্লেখ থাকতে পারে ক্যাগের রিপোর্টে।