বেঙ্গালুরুতে স্ত্রী সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনকে হত্যা, ধৃত ক্যাবচালক, মেয়ের সাহায্যেই খুনের ছক কষে অভিযুক্ত
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: দাম্পত্য কলহের জের। স্ত্রীকে নোড়া দিয়ে খুন করলেন স্বামী। পেশায় ক্যাবচালক। অভিযোগ, এরপর এক এক করে শাশুড়ি, দুই শ্যালক, তাঁদের বউ ও সন্তানকেও হত্যা করেন তিনি। ৭ জনকে খুনের পর গাড়িতে করে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর একাধিক জায়গায় দেহগুলি ফেলে আসেন। এমনই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরুর শ্রীরামপুরা। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনায় ৩ নভেম্বর অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ইন্দুশেখরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ১৬-৩১ অক্টোবরের মধ্যেই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে। আর এই কাজে ধৃতকে সাহায্য করেছে তাঁর ১৭ বছরের মেয়ে। দেহগুলি উদ্ধার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

২০ বছর আগে ইন্দুশেখর ও সুনীতার বিয়ে হয়। শুরু থেকেই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হত। বারবার স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া পছন্দ করতেন না  অভিযুক্ত। একাধিক কারণে সন্দেহ করতেন। সম্প্রতি ঝামেলা চরমে পৌঁছায়। স্ত্রীকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বউকে সমর্থন করতেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন। তাই ইন্দুশেখর ঠিক করেন, তাঁদেরও মেরে ফেলবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে নোড়া দিয়ে আঘাত করে স্ত্রীকে খুন করেন ইন্দুশেখর। মহিলার দেহটি কাপড়ে মুড়ে নন্দি হিলসের কাছে ফেলে দেন। এরপর স্ত্রীর ফোন সুইচ অব করে দেন। প্রতিবেশীদের বলেন, বউ ঘুরতে গিয়েছেন। যাতে কেউ সন্দেহ না করে। 
পরে সুনীতার বাপের বাড়ির লোকজনকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেন। একে একে শাশুড়ি রূপবতী, দুই শ্যালক শিবকুমার ও শংকর, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী ও শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনিথকেও নোড়া দিয়ে থেঁতলে খুন করেন। তারপর দেহগুলি গাড়িতে করে রাজ্য তো বটেই এমনকি ভিনরাজ্যরও নানা প্রান্তে ফেলে আসেন। খুনের পর রক্ত মুছতে রাসায়নিকও ব্যবহার করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিখোঁজের তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে জেরা করতেই ধরা পড়ে যান। ইন্দুশেখরকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি নোড়া ও গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় ধৃতের মেয়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।