Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিএএ-র শুনানি হবে জেলার চার মহকুমায়, অক্টোবরের শুরু থেকে ৯০ হাজারকে ডাকা হবে

পোস্ট অফিসে সিএএ-র শুনানি মাসখানেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নদীয়া জেলা প্রশাসনের তরফে‌ বকেয়া শুনানির প্রক্রিয়া আবার কবে শুরু হয়, সেই দিকেই সকলে তাকিয়ে ছিলেন।

সিএএ-র শুনানি হবে জেলার চার মহকুমায়, অক্টোবরের শুরু থেকে ৯০ হাজারকে ডাকা হবে
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পোস্ট অফিসে সিএএ-র শুনানি মাসখানেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নদীয়া জেলা প্রশাসনের তরফে‌ বকেয়া শুনানির প্রক্রিয়া আবার কবে শুরু হয়, সেই দিকেই সকলে তাকিয়ে ছিলেন। অবশেষে, সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বড়ো পরিবর্তন হল, এবার নদীয়া জেলায় শুনানি প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ করা। সিএএ শুনানি জেলাস্তর থেকে মহকুমাস্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। জেলার কল্যাণী, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর এবং তেহট্ট এই চার মহকুমায় শুনানি হবে। ফলে কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। 

Advertisement

রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলাতেই সিএএ-তে সর্বাধিক আবেদনকারী রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলা প্রশাসনকে প্রায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর হেয়ারিং করতে হতে পারে। তাই প্রশাসন মহলের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর শুনানি শুধুমাত্র জেলাস্তরে কেন্দ্রীভূত থাকলে তা দ্রুত সম্পন্ন করা সময় সাপেক্ষ। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেইমতো তোড়জোড় শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসনের অন্দরেও।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে, কবে কোথায় শুনানির জন্য তাঁদের নথিপত্র নিয়ে আসতে হবে।
জানা গিয়েছে, মহকুমাস্তরে একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হবে। যেখানে উচ্চ পদমর্যাদার অফিসার আবেদনকারীদের সিএএ-এ হিয়ারিং করবেন। সেখানেই আবেদনকারীকে একাধিক এফিডেফিট, আবেদনকারীর ভারত ও বাংলাদেশের নথিপত্র, এছাড়াও ধর্মীয় সংস্থা থেকে ধর্মীয় প্রমাণপত্র সহ কেন্দ্র সরকার নির্ধারিত ৭-৮ রকমের নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে হবে। এতদিন পোস্ট অফিসে শুনানির সময় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে আবেদনকারীদের রিপোর্ট নেওয়া হত। এবার সেই দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
নদীয়া দক্ষিণের বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘রাজ্যের পালাবদলের পরেই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করেন। বিজেপি সরকার তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে প্রথম থেকেই সদর্থক ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার তা বাস্তবায়িত করেনি। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত এই কাজ শেষ‌ হলে, বহু মানুষ উপকৃত হবেন।
জানা গিয়েছে, মতুয়া অধ্যুষিত নদীয়া জেলায় নাগরিকত্ব পেতে সিএএ-তে প্রায় এক লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার আবেদনকারীর শুনানি ডাক বিভাগের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, গত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে সিএএ-আবেদনকারীদের না জানিয়েই পোস্ট অফিসে শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ অটো-জেনারেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদনকারীদের মেইল ও মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হতে থাকে, কোন তারিখে, কোন সময়ে ডাক বিভাগের কোন অফিসে তাঁদের উপস্থিত হতে হবে।
সেইমতো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আবেদনকারীদের একদিকে পোস্ট অফিস, অন্যদিকে জেলাশাসকের দপ্তরে চক্কর কাটতে হয়েছে। কারণ, মেসেজে পোস্ট অফিসে শুনানির জন্য উপস্থিত হতে বলা হলেও সেখানে গিয়ে আবেদনকারীরা জানতে পারেন, শুনানির ভেন্যু জেলাশাসকের দপ্তরে স্থানান্তরিত হয়েছে। এরপর জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়েও তাঁরা জানতে পারেন, সেখানে এখনো শুনানি শুরুই হয়নি। কবে থেকে শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং কীভাবে তা জানতে পারবেন, এ বিষয়ে আবেদনকারীদের সরকারিভাবে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। তবে এবার সেই সমস্যার সমাধান মেলায় স্বস্তি ফিরেছে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ