সংবাদদাতা, রানাঘাট ও বনগাঁ: কেন্দ্র সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত বাংলাদেশি শরণার্থী হিসাবে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের সিএএ (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) আবেদনের নিষ্পত্তি হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। শুক্রবার নদীয়ার আড়ংঘাটায় কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যে সমস্ত হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিস্ট্রান বাংলাদেশ থেকে এসে এদেশে শরণার্থী হয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে তাঁরা সিএএ’তে আবেদন করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বলেছেন, রাজ্য সরকার এহেন প্রতিটি আবেদনের নিষ্পত্তি করবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। শুভেন্দুর এই প্রতিশ্রুতিকে সিংহগর্জনে সায় দিয়েছে মতুয়া শরণার্থী ও হিন্দু উদ্বাস্তু অধ্যুষিত আড়ংঘাটা। আড়ংঘাটা ছাড়াও মতুয়া গড় বনগাঁর চাঁদপাড়া ও মছলন্দপুরে দুটি কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও একই প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আড়ংঘাটার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া হাঁসখালি গণধর্ষণ এবং তাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রশাসনের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।
এদিনের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে শরণার্থীদের অধিকার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ধর্ম ও জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এদেশে শরণার্থী হিসেবে চলে এসেছেন,তাঁদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে সংসদে সিএএ আইন এনেছিলেন। কিন্তু বিগত রাজ্য সরকার তাতে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। ফলে বহু মানুষ আবেদন করলেও, তা কার্যকর হয়নি। এই প্রসঙ্গে তাঁর ঘোষণা, বর্তমান সরকার বদলের পর নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্ত এলাকার সমস্ত শরণার্থীদের সিএএ আবেদন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি করা হবে। একটি আবেদনও বাকি থাকবে না। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আপনারা সিএএতে আবেদন করুন তার নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব আমাদের।
হাঁসখালিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক গণধর্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণ ও মৃত্যুর পর ক্লাস নাইনের এক ছাত্রীর দেহ ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই দাহ করে দেওয়া হয়েছিল। এহেন নৃশংস ঘটনাকে তৎকালীন সরকার ‘লাভ অ্যাফেয়ার’ বলে চালিয়েছিল। কালীপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে কৃষকবন্ধু সম্মাননিধি, বার্ধক্য ভাতা, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে পান, সেদিকেও নজর রাখার জন্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন তিনি।
এদিনের এই আড়ংঘাটার অনুষ্ঠানের মঞ্চে নদীয়া জেলা বিজেপি সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী এবং তিন বিধায়ক অসীম বিশ্বাস, পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় এবং অসীমকুমার বিশ্বাস। বনগাঁর চাঁদপাড়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া ও বিধায়ক স্বপন মজুমদার প্রমুখ। মছলন্দপুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর।



