নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঁশবেড়িয়া স্টেশন চত্বরের অন্ধকার বাইপাস রোডে আলোর ব্যবস্থা করা নিয়ে বেনজির টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বনাম বাঁশবেড়িয়া পুরসভার টানাপোড়েনের জেরে সমস্যায় যাত্রীরা। প্রতিদিন প্রায় এক কিলোমিটার অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে স্টেশনে যাতায়াত করতে হচ্ছে সবাইকে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতী তাণ্ডব বেড়ে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বাসিন্দাদের।
বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান আদিত্য নিয়োগী বলেন, ‘স্টেশন চত্বরের বাইপাস রোড খুব প্রয়োজনীয় একটি রাস্তা। বাজারের ভিড় এড়িয়ে ওই পথে স্টেশনে যাওয়া যায়। কিন্তু রাস্তাটি রেলের অধিকারে থাকায় আমরা সেখানে কোনও কাজ করতে পারি না। সামান্য পথবাতি বসানোর অনুমতিও রেল আমাদের দিচ্ছে না। তারা নিজেরাও কাজ করছে না। ফলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে দুষ্কৃতীদের আড্ডার জায়গা হয়ে উঠছে ওই পথ।’ অন্যান্য পুরকর্তাদের দাবি, দফায় দফায় রেল কর্তৃপক্ষের কাজে আবেদন করা হয়েছে। বিনা শর্তে শুধু মাত্র কয়েকটি পথবাতি বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ উচ্চবাচ্য করেনি। ফলে সমস্যার সমাধানও হয়নি। সময়ের সঙ্গে ভোগান্তি বেড়েছে বাসিন্দাদের। বাঁশবেড়িয়া স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। তবে এক রেলকর্তা বলেন, ‘রেলের জমি অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করতে দিলে কিছু আইনকানুন মানতে হয়। সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেয়। স্টেশন কর্তৃপক্ষের হাতে কিছু থাকে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে যেমন নির্দেশ আসবে তেমনই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ব্যবসার কাজে নিয়মিত বাঁশবেড়িয়া যাতায়াত করেন চুঁচুড়ার সুবল প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন অন্ধকার পথে আতঙ্কের সঙ্গে চলতে হয়। রাস্তাটি দিয়ে নিত্য হাজারখানেক যাত্রী চলাচল করেন। দু’টি প্রতিষ্ঠানই সরকারি। তাহলে এত সমস্যা কেন হবে?’ বাঁশবেড়িয়া স্টেশনের সাইডিং অর্থাৎ মালগাড়ির মাল ওঠানামা করার পুরনো জায়গা থেকে একটি রাস্তা এক নম্বর রেলগেট পর্যন্ত এসেছে। প্রায় এক কিমি ওই রাস্তাটি স্টেশনে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ পথ। স্থানীয় এলাকায় বাইপাস নামে পরিচিত ওই রাস্তাটি বাঁশবেড়িয়া বাজার এড়িয়ে মানুষকে যেতে সাহায্য করে। তাতে স্টেশনে যাওয়ার পথ সহজ হয়। কিন্তু রাস্তাটি প্রায় একবছর ধরে অন্ধকার হয়ে পড়ে। অতীতে রেলের কিছু আলো ছিল। কিন্তু সেসব গায়েব হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাস্তাটির গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। এখন প্রতিদিন অন্ধকার ওই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বাসিন্দারা।