নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্পের জন্য লিজে নেওয়া জমি পূর্ণ মালিকানায় রূপান্তরিত করার সুযোগ করে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু এরাজ্যে ছোটো শিল্পের জন্য যে পার্কগুলি আছে, সেখানে এখনো সেই সুযোগ নেই। রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষুদ্র ও ছোটো শিল্প সংস্থাগুলির তরফে আবেদন, শিল্প পার্কে থাকা জমি বা এলাকাকেও পূর্ণ মালিকানার সুযোগ দেওয়া হোক। আজ সোমবার নয়া সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে যাতে এই ব্যাপারে ঘোষণা হয়, তার আবেদন রেখেছে দ্য ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশনস অব কটেজ অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ওয়েস্ট বেঙ্গল (ফ্যাকসি)। তাদের বক্তব্য, যদি জমির পূর্ণাঙ্গ মালিকানা পাওয়া যায়, তাহলে ব্যাংকঋণ পাওয়া সহজ হয় শিল্প সংস্থাগুলির তরফে।
এরই সঙ্গে ফ্যাকসি জানিয়েছে, এমএসএমই নির্ভর বাংলায় মাত্র ৬৭টি শিল্প পার্ক আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সেই সংখ্যা যেমন বাড়ানো দরকার, তেমনই সেখানে যাতে কিস্তিতে টাকা মেটানোর মাধ্যমে জমি বা শেড পাওয়া যায়, সেই সুযোগও চেয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের চেয়ারম্যান এইচ কে গুহ বলেন, ক্ষুদ্র ও ছোটো শিল্পের উপর থেকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ভার লাঘব করারও প্রস্তাব রেখেছি আমরা। সরকার এই শিল্পের জন্য ‘উদ্যাম’ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের উপর জোর দিচ্ছে। সেখানে নাম নথিভুক্তিতে ট্রেড লাইসেন্সেরর উপর ৫০ শতাংশ ছাড়ের দাবি জানিয়েছি আমরা। এরই সঙ্গে স্ট্যাম্প ডিউটি চার শতাংশ এবং রেজিস্ট্রেশন খরচ ১ শতাংশে নামানো হোক, চাই আমরা। কর্মচারীদের বেতন ২৫ হাজার টাকার কম হলে প্রফেশনাল ট্যাক্স সম্পূর্ণ লাঘব করার কথা জানিয়েছি আমরা। এতে কর জমা সংক্রান্ত প্রশাসনিক চাপ কমবে সংস্থাগুলিতে। প্রেসিডেন্টের কথায়, এমনিতেই জ্বালানির দাম চড়া থাকার কারণে ছোটো শিল্পে নাভিশ্বাস উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি আর্থিক সহায়তা জরুরি। রাজ্যে এমএসএমইতে সেই অর্থে বড়ো কোনও আর্থিক ত্রাণ নেই। আমরা বাজেটে এই সংক্রান্ত ঘোষণা চাই।