নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ঠিক যেন হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্য। গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে পাটনা থেকে টাকা নিয়ে কলকাতা অভিমুখে যাচ্ছিলেন বিহারের এক ব্যবসায়ী। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কাঁকসার বাঁশকোপা টোল প্লাজায় কাস্টমস আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁর গাড়ি আটকায় কয়েকজন। নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ীর গাড়িকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীর থেকে ৪০ লক্ষ টাকা লুট করে চম্পট দেয় সরকারি অফিসাররা। ঘটনার তদন্তে নেমে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অফিসাররা আটজনকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে দু’জন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ কাস্টমস বিভাগের ইনস্পেক্টর র্যাঙ্কের অফিসার।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া কাস্টমস অফিসার মতিলাল বিশ্বাসের বাড়ি কলকাতার দমদম এলাকায়। অন্য কাস্টমস অফিসার সন্দীপ ঝাঁর বাড়ি হাওড়ার লিলুয়ায়। দু’জনেই মালদায় পোস্টিং ছিলেন। বাকিদের মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক। পুলিশ জানতে পেরেছে, পুরো পরিকল্পনাটি করে গুজরাতের আহমেদাবাদের এক দুষ্কৃতী। পুলিশ শুক্রবার গভীর রাতে তাকেও গ্রেফতার করেছে। ডিসি অরবিন্দ আনন্দ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করা হয়। এখনও পর্যন্ত দু’জন কাস্টমস অফিসার সহ আটজন গ্রেফতার হয়েছে। আহমেদাবাদ থেকেও একজনকে গ্রেফতার করে আনা হচ্ছে।
১১ সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটলেও কেন এত দেরিতে অভিযোগ? ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি বুঝতে পারেননি কাস্টমসের অফিসারদের বিরুদ্ধে কোথায় অভিযোগ করতে হবে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা বিভাগের উপর। এরপরই গোয়েন্দারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। তদন্ত উঠে আসে সত্যি কাস্টমস অফিসাররাই এই লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত। এরপরই তাদের অবস্থান ট্র্যাক করা হয়। পুলিশ মালদায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার মধ্যেই খবর আসে অভিযুক্তরাই ফের শিল্পাঞ্চল অভিমুখে আসছে।
শুক্রবার তাঁরা জেলায় ঢুকতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা ছ’জন একসঙ্গেই ছিল। তাঁদের জেরা করে বাকিদের খোঁজ পায় পুলিশ। শুক্রবার রাতে আরও একজনকে গ্রেফতার করে। শেষে আহমেদাবাদে গ্রেফতার হয় কিংপিন। তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হচ্ছে।