শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রেলযাত্রার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। এখন আর রেল-সফর ততটা নিরাপদ নয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের সেই দাবি যে অমূলক নয়, সেই প্রমাণ মিলল আরও একবার! চলন্ত লোকাল ট্রেনের কামরা থেকে লুট হয়ে গেল এক ব্যবসায়ীর ৩০ হাজার টাকা। সপ্তাহখানেক আগে বেলুড় স্টেশনে মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে। স্টেশনে ট্রেন ঢোকার মুখে তিন দুষ্কৃতী অন্য একটি কামরা থেকে আরেকটি কামরায় এসে ওঠে। সেখানে একমাত্র যাত্রী ছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর গলা, হাত, পা চেপে ধরে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ওই স্টেশনেই নেমে যায় দুষ্কৃতীরা। ব্যবসায়ী ট্রেন থেকে নেমে তাড়া করেন তাদের। তাঁর চিৎকার শুনে জিআরপি ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলে। বাকি দু’জন পালায়।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীর নাম সাধু মণ্ডল। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে। তাঁর জামাকাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। পুজোর জন্য মঙ্গলাহাট থেকে পাইকারি দরে জামাকাপড় কিনবেন বলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাতের ট্রেন ধরেন তিনি। সাধুবাবু জানিয়েছেন, পুজোর জন্য জামাকাপড় বেশি করে তুলবেন বলে সেদিন তাঁর কাছে একটু বেশি টাকা ছিল। ৩০ হাজার টাকা রাখা ছিল প্যান্টের নীচে থাকা হাফপ্যান্টের পকেটে। ১৫ তারিখ রাত ১০টা ২০ নাগাদ শক্তিগড় স্টেশন থেকে দিনের শেষ বধর্মান-হাওড়া (কর্ড লাইন) লোকাল ধরেন তিনি। ট্রেনের মাঝামাঝি একটি কামারায় উঠেছিলেন। ওই কামরায় তিনি একাই জানালার ধারে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ট্রেন বেলুড় ঢোকার মুহূর্তে চড়াও হয় তিন দুষ্কৃতী।
অভিযোগকারী রেল পুলিশকে জানিয়েছেন, একজন তাঁর গলা ও ঘাড় চেপে ধরে। এক দুষ্কৃতী তাঁর দু’পা চেপে ধরে। অন্য একজন প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে টাকা খুঁজতে থাকে। সেখানে টাকা না পেয়ে প্যান্ট টেনে খোলার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। একসময় উপরের প্যান্ট টেনে ছিঁড়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। ভিতরে পরে থাকা হাফপ্যান্টের পকেট থেকে ৩০ হাজার টাকা লুট করে তিনজনই ট্রেন থেকে নেমে পালায়। ব্যবসায়ীও নেমে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করে ধাওয়া করেন। দু’জন স্টেশন থেকে নেমে রেললাইন টপকে জঙ্গলের দিকে পালায়। তুহিন তাঁতি নামে এক দুষ্কৃতী ধরা পড়ে। রেল পুলিশ লুটের মামলা রুজু করে।
ধৃতকে জেরা করে রেল পুলিশের অফিসাররা জেনেছেন, তিনজন অনেক আগেই ওই ট্রেনে উঠেছিল। বিভিন্ন কামরায় তারা ঘোরাঘুরি করছিল। যেসব কামরায় একাধিক যাত্রী ছিলেন, সেখানে তারা সুবিধা করতে পারেনি। বেলুড় স্টেশনে ঢোকার মুখে ট্রেনের গতি কম থাকার সুযোগে তারা অন্য কামরা থেকে সাধুবাবুর কামরায় চলে আসে। ব্যবসায়ীকে একা পেয়ে লুটপাট চালায়।
ধৃত তুহিনের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় চুরি, ছিনতাইয়ের একাধিক অভিযোগ আছে। তাকে আরও জেরা করে লুটের টাকা ও অন্য দু’জনের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।