Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত সকালে বার্নপুরে শ্যুটআউট নিহত ব্যবসায়ী, দুই ভাইপো সহ ধৃত ৩

শিল্পাঞ্চলে ফের শ্যুটআ‌উট। এবার হীরাপুরের করিমডাঙা। বার্নপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে বাড়ির অদূরেই অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়।

সাত সকালে বার্নপুরে শ্যুটআউট নিহত ব্যবসায়ী, দুই ভাইপো সহ ধৃত ৩
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে ফের শ্যুটআ‌উট। এবার হীরাপুরের করিমডাঙা। বার্নপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে বাড়ির অদূরেই অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। শনিবার সকালে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা বার্নপুর শহরে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে আততায়ীরা হামলা চালায়। ওই ব্যবসায়ীর নাম মহম্মদ সারফুদ্দিন (৪৫)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অনেকের দাবি, দেহের পাশেই একটি পিস্তল পড়েছিল। তাঁরাই খবর দিয়েছিলেন থানায়। পুলিশ এসে সারফুদ্দিনকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এদিকে, শ্যুটআউটের তদন্তে নজিরবিহীন সাফল্যও পেল পুলিশ। বিকেলের মধ্যেই জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দু’জনই সারফুদ্দিনের ভাইপো। একজন মহম্মদ সাদ্দাম। সে বড় ভাইয়ের ছেলে। অন্যজন, মহম্মদ সালাম। সে সেজো ভাইয়ের ছেলে। অন্যজন রীবন্দর সিং। তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ এনেছে পুলিশ।

Advertisement

এদিন সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে ডিসি (পশ্চিম) মহম্মদ সানা আখতার বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে সম্পত্তিজনিত বিবাদের কারণে এই হত্যাকাণ্ড। ধরা পড়েছে তিনজন। আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ ঘটনার পরপরই এসিপি ইপ্সিতা দত্ত বলেছিলেন, ‘সন্দেহজনক কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, অভিযুক্তরা দ্রুত ধরা পড়বে।’ তারপরেই পুলিশের এই সাফল্য।

সারফুদ্দিনের বড় হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে। পাশাপাশি, ইস্কো ও কর্পোরেশনের ঠিকাদার হিসাবে কাজ করতেন। অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ছিলেন তিনি। স্থানীয় করিমডাঙা মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষও ছিলেন। এলাকায় প্রচুর দানধ্যানও করতেন। প্রতিদিন নিয়ম করে নামাজ পড়তেন। এদিন সকালে একটু দেরিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।  ততক্ষণে অন্যরা মসজিদে ঢুকে পড়েন। নামাজ পড়া শুরুর ঠিক আগে গুলির শব্দ পান এলাকাবাসী। অনেকেই মনে করেছিলেন কোথাও বাজি ফেটেছে। মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন। তাঁরা দেখতে পান রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে সারফুদ্দিন। মুহূতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। ঘিরে ফেলা হয় এলাকাটি। ব্যবসায়ীর তিনটি নাবালিকা মেয়ে ও একটি ছ’বছরের পুত্র রয়েছে। এলাকার গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়ে হয়েছে তাঁর আর্থিক সাহায্যে। স্বভাবতই সারফুদ্দিনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সকলেই। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী ইসরাত জাবিন বাকরুদ্ধ। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমে এলাকার সিসিক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানেই ধরা পড়ে নম্বর প্লেট বিহীন একটি বাইক সন্দেহজনকভাবে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। হেলমেট পরার পাশাপাশি গামছা দিয়ে মুখ ঢাকা ছিল। সারফুদ্দিন মসজিদে যাওয়ার সময়ে তাঁর পিছু নিতেও দেখা যায় বাইকটিকে। ফুটেজে ধরা পড়েছে গুলি চলার শব্দও। কিন্তু, ঘটনাস্থলে কোনও সিসিক্যামেরা ছিল না।

করিমডাঙায় ব্যবসায়ীর পেল্লাই বাড়ি। তাঁর পাঁচ ভাই। এক ভাই কয়লা ব্যবসা করতেন। তিনি আলাদা থাকেন। বাকি চার ভাই বিশাল বাড়িতেই থাকেন। ভাইদের মধ্যে তীব্র বিবাদও ছিল। বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি, সারফুদ্দিনের ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠেছিল। ফলে, শ্যুটআউটের ঘটনায় ভাইপোদের সঙ্গে বাইরের কোনও ব্যবসা সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে কিনা, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ