নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্কিং নিয়ে বচসা থেকে ধাক্কাধাক্কি। তার ফলে রাস্তায় পড়ে মৃত্যু হল অরুণ গুপ্তা (৪৮) নামে এক ব্যক্তির। শনিবার বিকেল তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ট্যাংরার মথুরবাবু লেনে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করেছে পুলিস। বাকিদের খোঁজ চলছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অরুণবাবু কেরোসিন তেলের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি ব্যবহার করা ইঞ্জিন অয়েলও বাড়িতে নিয়ে এসে বিভিন্নজনকে বিক্রি করতেন। নিজের বাইকে করে মাল নিয়ে আসতেন তিনি। অন্যদিনের মতো শনিবারও তিনি বাইকে করে পুরনো ইঞ্জিন অয়েল নিয়ে আসেন। এসে দেখেন, বাড়ির সামনে একটি ছোট লরি দাঁড় করানো রয়েছে। এই কারণে তিনি নিজের বাইক পার্কিং করতে বা মালও নামাতে পারছিলেন না।
এনিয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তখন সেখানে হাজির হয় আর্য সাউ ও গৌরব সাউ নামে দুই যুবক। তাঁরা জানান, লরি এখান থেকে সরবে না। সেই নিয়ে অরুণবাবু ওই দুই যুবকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
বিষয়টি নিয়ে দুই তরফে ঝামেলা তীব্র হয়ে ওঠে। তখন সেখানে হাজির হন অরুণের দুই তুতো ভাই রাজেশ ও রবি সাউ। তাঁরাও গোলমালে জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা অরুণবাবুকে বলতে শুরু করেন, বাড়িতে মালপত্র ডাঁই করে রাখা থাকে। তাই বাড়িতে চলাফেরা করা যায় না। এমনকী মালও বাড়ির দোরগোড়ায় পড়ে থাকায় যাতায়াতে অসুবিধা হয়।
এর প্রতিবাদ করলে অরুণবাবুর উপর চড়াও হন চারজন। অভিযোগ, তাঁর বুক, পিঠ সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়। মারের চোটে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। মাথায় আঘাত লাগে তাঁর। ঘটনাস্থলেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। ঘটনা শুনে তাঁর পরিবারের লোকজন বেরিয়ে এসে দেখেন, অরুণবাবু রাস্তায় পড়ে রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, পার্কিং নিয়ে প্রতিবাদ করায় বাবাকে বেড়ধক মারধর করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।