নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেআইনিভাবে রেশনের আটা ও চাল কিনে মজুত করতেন মুদি ব্যবসায়ী। এরপর সরকারি প্যাকেট ছিঁড়ে সেগুলি অন্য প্যাকেটে ভরে চালান করতেন বাজারে। এই অভিযোগ পেয়ে রবিবার দুপুরে জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়ায় ওই ব্যবসায়ীর গুদামে হানা দেয় পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় ২১ বস্তা চাল ও আটা। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী উত্তম দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তম দাস সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রেশনের চাল ও আটা কিনে নিতেন। বড়গাছিয়া স্টেশন রোডে তাঁর একটি আনাজের দোকান রয়েছে। দোকানের পিছনেই রয়েছে কয়লার গুঁড়ো থেকে গুল তৈরির কারখানা ও গুদাম। ওই গুদামেই চলত সরকারি চাল ও আটার প্যাকেট কেটে সেগুলিকে অন্য প্যাকেটে ভরে সিল করার কাজ। সেখানেই মজুত করা হতো খাদ্যসামগ্রী। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি কাজ করছেন ওই ব্যবসায়ী। রেশনের চাল কিংবা আটা বাজারের তুলনায় কম সুস্বাদু, তাই নাকি স্থানীয়দের একাংশ উত্তমের দোকানে এসে সেগুলি বিক্রি করে দিতেন। পরিবর্তে বাজারদর অনুযায়ী ভালো টাকাই দিতেন উত্তম। এদিকে, এই সরকারি খাদ্যসামগ্রী ভুয়ো প্যাকেটে ভরে চালান হচ্ছিল বিভিন্ন বাজারে। এদিন দুপুরে ওই গুদামে হানা দিয়ে চাল-আটার ৩০টি বস্তা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সিল করে দেওয়া হয়েছে গুদামটি।
ইতিমধ্যেই খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকদের খবর দিয়েছে পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে রেশন দুর্নীতির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী ধরনের প্যাকেটে এগুলি সরবরাহ করা হতো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধুলোগড়, আলমপুর, জঙ্গলপুরের দিকে এই আটা পাঠানো হতো বলে দাবি করেছেন ধৃত ওই ব্যবসায়ী। তাঁর যুক্তি, ‘ভিক্ষুক ও পুরোহিতদের কাছ থেকে চাল, আটা কিনতাম। তার পরিবর্তে টাকা দিতাম তাঁদের। সব ব্যবসায়ীই এমনটা করেন। এতে তো ভুলের কিছু নেই।’