Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬

বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জেরে ব্যবসায় ক্ষতি! স্ত্রী-ছেলেকে মেরে আত্মঘাতী বৃদ্ধ

কর্ণাটকের ব্যবসায়ী প্রভাকর বিনামূল্যে বাস পরিষেবার কারণে ব্যবসায় ক্ষতির জন্য স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করে আত্মহত্যা করেন। বিস্তারিত পড়ুন।

বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জেরে ব্যবসায় ক্ষতি! স্ত্রী-ছেলেকে মেরে আত্মঘাতী বৃদ্ধ
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: রেডিমেড পোশাকের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি। সেই হতাশা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করে আত্মহত্যা করলেন কর্ণাটকের এক ব্যবসায়ী। একটি সুইসাইড নোটও রেখে গিয়েছেন প্রভাকর (৬৫) নামে মান্ড্য শহরের ওই ব্যবসায়ী। সেখানে ব্যবসায় ক্ষতির নেপথ্যে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবাকে দায়ী করেছেন তিনি। এব্যাপারে তিনি লিখেছেন, বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য স্থানীয় মহিলারা মাইশুরু বা বেঙ্গালুরু শহরে কেনাকাটা করতে চলে যাচ্ছেন। তাঁর দোকানে বিক্রিতে টান পড়েছে। ফলে ব্যবসায় লাভ তলানিতে। অন্যদিকে মাথায় চাপছে ঋণের বোঝা। সেজন্য শেষপর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

Advertisement

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, প্রথমে গলায় ধুতির ফাঁস দিয়ে স্ত্রী জ্যোতিকে খুন করেন প্রভাকর। ছেলে সন্তোষ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকেও খুন করেন ওই ব্যবসায়ী। এরপর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দোকানে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মাস দেড়েক আগেই সন্তোষের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার সময় কিছুই টের পাননি বলে জানিয়েছেন নববধূ। 
পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাকরের পরিবার বহুদিন ধরেই পোশাকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাঁচ বছর আগে সেই ব্যবসা ভাগ হয়ে যায়। প্রভাকর ব্যাংক ও অন্যান্য জায়গায় থেকে ঋণ নিয়ে নিজের দোকান শুরু করেন। ছোটো শহরে ব্যবসা ভালোই চলত। কিন্তু কর্ণাটক সরকার ‘শক্তি প্রকল্প’ চালু করার পরেই সমস্যা শুরু হয় বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন প্রভাকর। ওই প্রকল্পে কর্ণাটকের সমস্ত সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হয়। ফলে, মান্ড্য থেকে এক-দেড় ঘণ্টার দূরত্বে মাইশুরু বা বেঙ্গালুরু শহরে বড়ো বড়ো পোশাকের দোকান বা শপিং মলে কেনাকাটা শুরু করেন স্থানীয় মহিলারা। প্রভাকরের পূত্রবধূ মেঘনা জানিয়েছেন, ভোরবেলা তিনি শাশুড়িকে ডাকতে যান। ঘরে ঢুকেই দেখেন স্বামী ও শাশুড়ির দেহ পড়ে রয়েছে। পরে প্রভাকরের দেহও উদ্ধার হয়। কিন্তু বৃদ্ধ প্রভাকর দু’জনকে কীভাবে খুন করতে পারলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ