


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ব্যস্ত অফিস টাইম। ভিড় বাস। গেটের সামনে বাদুড়ঝোলা অবস্থা। ‘একটু এদিকে সরে দাঁড়ান, ওদিকে সরে দাঁড়ান’, বলতে বলতে ধাক্কাধাক্কি। এক অফিসকর্মী বাস থেকে নেমে দেখলেন, তাঁর পকেট থেকে উধাও স্মার্টফোন! একজন আবার ভিড় ঠেলে বাসে উঠে দেখেন, তাঁর মানিব্যাগ নেই! সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে এমনই অজস্র অভিযোগ পেয়েছে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। পকেটমারদের কোনো চক্র এই কাজ করছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি পুলিশ অফিসারদের। দুষ্কৃতীদের ধরতে কৌশল গ্রহণ করে পুলিশ। খাঁদি উর্দির বদলে সাদা পোশাক পরে যাত্রী সেজে ভিড় বাসে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। ঠিক সেই সময় ভিড় থেকে এগিয়ে আসছিল এক লিকলিকে হাত। বাস থামিয়ে তাকে ধরতেই দেখা যায়, সে একা নয়। ভিড় বাসে পকেটমারি করছে একসঙ্গে ৬ জন!
পুলিশ জানিয়েছে, সবুজ শেখ, আমিরুল লস্কর, বাবর আলি মণ্ডল, আহিদুল ইসলাম লস্কর, সালাউদ্দিন শেখ এবং রমজান শেখকে পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ধৃতরা জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। কীভাবে করত পকেটমারি? তারা পুলিশকে জানিয়েছে, সেক্টর ফাইভে অফিস টাইমে প্রতিদিন বাসে ভিড় হয়। সেই সময় তারা ছ’জন একসঙ্গে কোনও ভিড় বাসে ওঠে। যে যাত্রীকে টার্গেট করা হয়, তার গা ঘেঁষে ওই ছ’জন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ত। বাসে যত না ভিড়, তার চেয়ে বেশি কৃত্রিম ভিড় তৈরি করে ধাক্কাধাক্কি করত তারা। একটু অন্যমনস্ক হলেই ফোন, মানিব্যাগ হাতিয়ে নিত। তারপর নেমে পড়ত।
মাঝে মাঝে গেটের মুখে পাদানির সামনেও ছ’জন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ত। যে যাত্রীরা উঠছেন বা নামছেন, তাঁরাই তখন টার্গেট থাকত তাদের। কারণ, ভিড় বাসে ওঠানামার সময় অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পকেট সাফ করত ধৃতরা। সম্প্রতি, এক যাত্রী মোবাইল ফোন চুরি নিয়ে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুরো চক্রটিকে ধরে ফেলে পুলিশ। প্রসঙ্গত, পুজোর আগে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানা একটি পকেটমার গ্যাংয়ের সদস্যদের পাকড়াও করেছিল। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, এই অভিযান করার জন্য সাদা পোশাকের পুলিশকে মাঠে নামানো হয়। যাঁরা ভিড় বাসে ওই পকেটমারদের খোঁজ করেন। এতেই সাফল্য এসেছে। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।