নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সকাল ১০টা। টালিগঞ্জ মোড়। গড়িয়া যাওয়ার বাস নেই। বন্ধ মেট্রো। স্তব্ধ ট্রেন চলাচল। আর অটো সেই সুযোগ বুঝে যাত্রীদের লুঠতে তৈরি। গড়িয়া যেতে চাইছেন মাথা পিছু ১০০ টাকা। যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যেই ফুটপাথের পাশে দাঁড়িয়ে এক মহিলা কাচুমাচু মুখ করে ফোনে বলছিলেন, স্যার আজ কোনও গাড়ি নেই। অটো অস্বাভাবিক ভাড়া চাইছে। এই অবস্থায় অফিস যেতে পারব না। ডেডলাইনটা একদিন বাড়িয়ে দিন প্লিজ। বোঝা গেল, কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে তাঁর। অফিস না যেতে পারলে সমস্যায় পড়বেন। ওই স্ট্যান্ডেই আরও কয়েকজনকে দেখা গেল অটো চালকদের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। কিছুক্ষণ বাদেই একটি ছোটোহাতি গাড়ি এসে দাঁড়াল। চালক নেমেই হাঁকতে লাগল, ৩০ টাকায় গড়িয়া। যে যাত্রীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও অটোয় উঠে বসেছিলেন এবং যাঁরা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন সবাই সেই গাড়িতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। ৮-১০ জন সেই ছোটোহাতিতে জায়গা পেয়ে যে যার নিজের গন্তব্যে রওনা দিলেন।
টালিগঞ্জে যখন এই দৃশ্য তখন সেক্টর ফাইভের শিল্পতালুকে ধরা পড়ল আজব ছবি। নিজের ভ্যানকেই ‘গণপরিবহণ’ হিসেবে সাজিয়ে নিয়েছেন এক ‘বিক্রিওয়ালা’। ভ্যানের উপর পাশাপাশি বসিয়ে দিয়েছেন চেয়ার। নলবনের সামনে থেকেই জমা জলের মধ্যে দিয়ে স্বনিয়ন্ত্রিত গণপরিবহণ নিয়ে হাঁটলেন এক বিক্রিওয়ালা। আর হাঁকলেন—কলেজ মোড় ১৫০ টাকা, মিডিয়া সিটি বিল্ডিং ১০০ টাকা। নিরাশ হতে হয়নি তাঁকে। যাত্রীও পেলেন তিনি।
টালিগঞ্জে একের পর এক ছোটোহাতি এসে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করেছে। যাঁরা উঠবেন কি না দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তাঁদের অন্য যাত্রীরা ঠাট্টা করে বলেন, উঠে পড়ুন। আজকে এই হাতিই বাড়ি পৌঁছে দেবে। নইলে অপেক্ষা করতে হবে দিনভর। তবে এই চিত্র শুধু টালিগঞ্জে নয়, ধর্মতলা থেকে সোনারপুর সর্বত্রই সাধারণ মানুষ হাতি চেপে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছালেন।
সোমবার গভীর রাতে একটানা প্রবল বর্ষণের জেরে জলমগ্ন রাস্তাঘাট। এই অবস্থায় এদিন অনেককেই জরুরি কাজ নিয়ে বেরোতে হয়েছে। যেমন শিল্পী অধিকারী টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর আত্মীয়কে দেখতে। অটোচালকদের চড়া ভাড়া উপেক্ষা করে কোনওমতে ওই ছোটোহাতিতে উঠে গড়িয়া গেলেন। সেক্টর ফাইভের অফিস যাত্রীদের বক্তব্য, রাস্তায় বাস নেই। কিন্তু, অফিসের নিদান অনুপস্থিত থাকলেই বেতন কাটা হবে। তাই অগত্যা জল পেরিয়ে অফিস পৌঁছানোর চেষ্টা করেন আইটি কর্মীরা। সুনয়না ভৌমিক নামে বেহালার এক বাসিন্দা বলেন, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নলবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলাম। কিন্তু, সেখান থেকে কোমর সমান জলে হাঁটা সম্ভব নয়। তখনই ভ্যানওয়ালাকে দেখতে পান সুনয়না। ভ্যানের উপর
উঠে চেয়ারে বসে পড়েন কলেজমোড়গামী ওই মহিলা আইটি কর্মী। ১৫০ টাকা খরচে অফিসের দোরগড়ায় পৌঁছে যান তিনি।