সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: সোমবার হুগলি জেলাজুড়ে বাস ধর্মঘট পালিত হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিনে বাস না পেয়ে সমস্যায় পড়েন বহু যাত্রী। বাস রাস্তায় ‘বেআইনি’ অটো, টোটো, ট্রেকার প্রভৃতি চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবিতে অনির্দিষ্টকাল বাস ধর্মঘট ডেকেছিল বাস সংগঠন। লোকাল বাস সংগঠনকে সমর্থন করে সোমবার একদিনের জন্য ধর্মঘট করে এক্সপ্রেস বাস সংগঠনও। সোমবার চুঁচুড়ায় পরিবহণ দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে বাস সংগঠন। পরিবহণ মন্ত্রী জানান, অটো, টোটো নিয়ন্ত্রণে নতুন পলিসি আনতে চলেছে রাজ্য।
জেলার বৃহত্তম বাসস্ট্যান্ড তারকেশ্বরে। সেখানে বাস ধরতে এসে ভোগান্তির শিকার হয় বহু মানুষ। হাতে গোনা কয়েকটি ট্রেকার চলে স্ট্যান্ড থেকে। তাতেই বাদুড় ঝোলা অবস্থায় যাতায়াত করতে বাধ্য হন অনেকে। সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়াও দাবি করা হয়।
জেলাজুড়ে প্রতিদিন লোকাল ও এক্সপ্রেস মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ বাস চলে। ধর্মঘটের ফলে হুগলি জেলা বাদে ১১টি জেলার নিত্যযাত্রীরা সমস্যায় পড়েন।
আরামবাগ বাস, মিনিবাস ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মধুমিতা ভট্টাচার্য বলেন, শর্তসাপেক্ষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী কাল থেকে বেআইনি টোটো, অটো বন্ধে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে সরকার। আমরাও জানি, এতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগবে।
দাবি অনুযায়ী প্রশাসনের কাজ দিন দশেকের মধ্যে চোখে না পড়লে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ করা হবে। আমাদের দাবি অবৈধ অটো, টোটো, ট্রেকার ও ম্যাজিক গাড়ি প্রভৃতি স্টেট হাইওয়েতে কখনোই যাতায়াত করতে পারবে না। শাখা রোড থেকে তারা যাত্রী এনে বাস রাস্তায় যাত্রী নামিয়ে বাস পরিষেবা সক্রিয় করে তুলবে। আমরা টোটো, অটো বন্ধের পক্ষে নই। তবে সরকারি নিয়ম মেনেই তারা চলুক। রাজ্য সরকার ও হাইকোর্টের যে রায় আছে তা মান্যতা পাক। মঙ্গলবার থেকে বাস চলবে শর্তসাপেক্ষে।
এই বিষয়ে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানান, রাস্তায় অটো, টোটোসহ অন্যান্য বেআইনি যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় বাস পরিষেবা সমস্যায় পড়ছে। দাবি বাস মালিকদের। আমরা টোটো নিয়ে একটা পলিসি আনতে চলেছি। এটা বাস মালিকদের আগেও জানানো হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশন দিয়ে টোটোগুলিকে একটা নিয়মের মধ্যে আনা হবে। দেখব বাস, টোটো, অটো সবই যেন চলতে পারে। কারণ প্রত্যেকেই এসবের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে। সমাধান শীঘ্রই মিলবে বলে আশা করি। বাস মালিকদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা বাস বন্ধ করার রাস্তায় যাবেন না। এতে কোনও সমাধান হবে না। টোটো, অটো যাতে ‘পকেট’ রুটেই চলে, তা ট্রাফিক বিভাগ দেখবে।