সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: দুর্ঘটনার কবলে পড়ল উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের বাস। বুধবার ভোর চারটে নাগাদ গুড়াপে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত্যু হয়েছে এক পুণ্যার্থীর। নাম রামদেব মিশ্র (৪৫)। বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর এলাকায়। বাসটিতে ৫৬ জন পুণ্যার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর জখম হয়েছে ১২ জন। তবে বাকি যাত্রীরাও কমবেশি জখম হয়েছেন। ওই বাসের সঙ্গে পুণ্যার্থীদের আরও একটি বাস ছিল। সেটির অবশ্য কোনও ক্ষতি হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিয়ে উত্তরপ্রদেশের ওই বাসটি দেওঘর থেকে মঙ্গলবার রাতে রওনা দেয় গঙ্গাসাগরের উদ্দেশে। গঙ্গাসাগর হয়ে পুরী যাওয়ার কথা ছিল বাসটির। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বুধবার ভোরে গুড়াপে একটি লরির পিছনে ধাক্কা মারে বাসটি। বাসের গতি বেশি থাকায় লরিটিকে বেশ কিছুটা ঠেলে নিয়ে যায়। বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গুড়াপ থানার পুলিশ। বাসে থাকা পুণ্যার্থীদের উদ্ধার করে। আহতদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। বাকি পুণ্যার্থীদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হলে নিয়ে যাওয়া হয়। চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে একটি ধাবা থেকে বাসের চালককে গুড়াপ থানা গ্রেফতার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতে তোলা হবে তাকে।
পুণ্যার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের যাতে থাকা খাওয়ার অসুবিধা না হয়, তা দেখা হচ্ছে। তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধনেখালি কমিউনিটি হলে থাকা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন ডিএসপি ট্রাফিক ত্রিদিব বিশ্বাস এবং ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। উত্তরপ্রদেশের পুণ্যার্থীরা পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের ব্যবস্থা ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।