নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার বঙ্কিম সেতুতে বাস ও অটোর সংঘর্ষে জখম হলেন অটোচালক সহ ৬ যাত্রী। বুধবার দুপুরে বঙ্কিম সেতুর উপর হাওড়া স্টেশন ক্যাব রোড টার্নিংয়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অটোচালক ইমানুল আর্শির অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিকেলে তাঁকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে হাওড়া ময়দান-পার্ক স্ট্রিট সি রুটের একটি ফাঁকা বাস বঙ্কিম সেতুর উপরে নিয়ে গিয়ে ঘোরাচ্ছিলেন চালক। সেসময় হাওড়া স্টেশনের দিক থেকে বঙ্গবাসী মোড়ের দিকে আসছিল যাত্রীবাহী অটো। আশপাশ না দেখেই দ্রুতগতিতে চালক বঙ্কিম সেতুর উপর বাসটিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। অটোর গা ঘেঁষে বাস ঘোরানোর সময় সংঘর্ষ হয়। দুমড়ে মুচড়ে যায় অটোটি। আহত অবস্থায় অটোর যাত্রীদের বাইরে বের করে আনেন পথচারীরা। ছুটে আসেন ট্রাফিকে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকরা। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেককে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এক মহিলা সহ পাঁচ যাত্রীর প্রত্যেকেই সামান্য আহত হন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। আহত অটোচালককে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অটোয় থাকা যাত্রী তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ব্রিজে উঠে দেখলাম, মাঝ বরাবর বেপরোয়াভাবে বাসটিকে ঘোরাচ্ছেন চালক। অটোর গতিও ভালোই ছিল। অটোচালককে আগেই দাঁড়িয়ে পড়তে বলি। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল।’
হাসপাতালে দাঁড়িয়ে বাসের বেপরোয়া গতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অন্যান্য অটো চালকরা। সাজিদ হোসেন নামের এক অটো চালক বলেন, ‘এই ঘটনা নতুন নয়। সারাদিনই ফাঁকা বাস ব্রিজের উপর নিয়ে এসে ঘোরানো হয়। যখন তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ তাঁদের অভিযোগ, ৮ নম্বর, ৭১ নম্বর, ও সি রুটের বাসগুলিকে বঙ্কিম সেতুর উপর ইউ টার্ন করানো হয়। পুলিশ দেখেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না। এদিন দুর্ঘটনার পর অটোটিকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। হাওড়া সিটি ট্রাফিকের এক আধিকারিক বলেন, ‘অটোর যাত্রীরা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কোন বাস বেআইনিভাবে ব্রিজে তোলা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।’