নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু বিহারের পাটনার বেউর নয়, খোদ কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলের গারদে আড়ালে বসেও ‘জুয়েল থিফ’ গ্যাংস্টার সুবোধ সিং তার ‘অপারেশন’ অব্যাহত রেখেছে। এ রাজ্যের বিভিন্ন স্বর্ণবিপণি, ঋণদানকারী সংস্থা এবং ব্যাঙ্কে ডাকাতি এবং তোলা না মেলায় বেলঘরিয়ার এক ব্যবসায়ীর উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে অনেক কসরতের পর বেউর থেকে সুবোধকে এ রাজ্যে নিয়ে আসতে পেরেছিল সিআইডি। বারাকপুর জেল ঘুরে বিহারের এই গ্যাংস্টারের ঠাঁই প্রেসিডেন্সি জেলে। এই জেলে বসেই চলতি জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে ওড়িশার সম্বলপুরে এক স্বর্ণদানকারী সংস্থায় বড়সড় অপারেশন চালিয়েছে সুবোধের গ্যাং। গ্যাংয়ের ‘সিগনেচার স্টাইল’ হেলমেটে মুখ ঢেকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সাত-আটজনের দুষ্কৃতী দলটি সংস্থা থেকে ৩০ কেজি সোনার গয়না ও নগদ চার লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে গিয়েছে। ওড়িশা পুলিস এ রাজ্য ও বিহারের তদন্তকারীদের জানিয়েছে, অপারেশনের স্টাইল এবং অন্যান্য সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে, লুটের পরিকল্পনা সুবোধ সিংয়ের ‘মস্তিষ্কপ্রসূত’! কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বসেই এই পরিকল্পনা রচিত হয়েছে। এখবর পেয়ে চোখ কপালে উঠেছে এ রাজ্যের তদন্তকারীদের। কীভাবে জেলে বসে সুপরিকলিপ্ত অপারেশন সম্ভব করেছে সুবোধ, তার খোঁজখবর শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ওড়িশা পুলিস সুবোধকে জেরা করতে এ রাজ্যে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। চলতি মাসের ৩ তারিখ সম্বলপুরের বুধা রাজা মেন রোডে একটি স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থার অফিসে হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল। তারা সেখানকার কর্মীদের বেঁধে রেখে ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে সোনার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থায় লুটের কৌশল দেখে ওড়িশা পুলিসের অফিসাররা বুঝতে পারেন, এটা কোনও অর্গানাইজড গ্যাংয়ের কাজ। সুবোধের গ্যাং যে কায়দায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অপারেশন চালিয়েছে, ঠিক একই কায়দায় সম্বলপুরে ওই স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থায় লুট হয়েছে। এখান থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, পিছনে সুবোধ গ্যাংয়ের হাত থাকতে পারে। এরমধ্যে লুটের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বিহারের বাসিন্দা পঙ্কজ পাশোয়ান ও অজয় পাশোয়ানকে গ্রেপ্তার করে ওড়িশা পুলিস।
Advertisement
ওড়িশা এবং বিহার পুলিসের যৌথ টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, দুষ্কৃতীরা সকলেই একই গ্যাংয়ের। এর পিছনে বিহারের গ্যাংস্টাররা জড়িত বলে জানা যায়। বিহার এসটিএফ ধৃত দুজনের মোবাইলের কল লিস্ট বের করে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে। যাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা হয়েছিল, তাদের কল ডিটেইলসও বের করা হয়। সেগুলি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের একজনের কাছে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে ফোন গিয়েছে সুবোধের। বেউর জেলে বন্দি সুবোধের শাগরেদ পাল্লু সিং ফোন করেছে আরেক শাগরেদকে। পাল্লুকে হেফাজতে নিয়ে জেরার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বেউর জেলে থাকার সময়ে সুবোধ এই অপারেশনের পরিকল্পনা করেছিল। ডনের শাগরেদরা তাকে জানিয়েছে ‘বস’ কলকাতার জেলে বসে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। কোথায় কোথায় অপারেশন হবে তার প্ল্যান দিয়ে দিচ্ছে। এই পর্বেই সম্বলপুর নিয়ে ‘সবুজ সঙ্কেত’ দেয় সুবোধ। পাল্লু জেরায় আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সি জেল থেকে গ্যাংস্টারের নির্দেশ পাওয়ার পর শাগরেদরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপরই অপারেশন চূড়ান্ত হয়।



