


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চারদিক শুনশান। হাওয়া দিতেই নাকে আসছে পোড়া গন্ধ। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছে প্রবেশ পথ। পাহারায় রয়েছেন পুলিশকর্মীরা। আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদে জোড়া গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক মাস পর এমনই চিত্র ধরা পড়ল। আগুনের তাপে বেঁকে যাওয়া ডেকরেটর্স সংস্থার গোডাউনের কাঠামো ওইভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। তার পিছনে থাকা তিনতলা বিল্ডিং কালো হয়ে রয়েছে। দেখে মনে হবে ভূতুড়ে বাড়ি। গোডাউনের সামনে গেলে গা ছমছম অনুভূতি। এই স্থানেই আগুনে ঝলসে মারা গিয়েছেন ২৭ জন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার পর মৃতদের পরিবারের জীবন একেবারে ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। যাঁরা প্রিয়জনের দেহাংশ হাতে পেয়ে শেষকৃত্য করেছেন, তাঁরা সোম-মঙ্গলবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। আর যেসব পরিবার এখনও বাড়ির লোকেদের দেহাংশ হাতে পায়নি তাঁরা অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কবে প্রিয়জনের দেহ পাবেন এখনও স্পষ্ট নয়।
গোডাউনের প্রবেশ পথের মুখে রয়েছে একটি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার সার্ভিস সেন্টার। সেখানে কিছু লোকের ভিড় রয়েছে। সেটি ছাড়িয়ে এগতেই আর কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। দুই দলে ভাগ করে পুলিশকর্মীদের রাখা হয়েছে পাহারায়। কিছু থাকছে সামনের দিকে। বাকিরা পিছনে। রাত হলেই ভৌতিক অনুভূতি গ্রাস করে বলে দাবি করেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। সন্ধ্যার পর কেউই আর ভিতরে ঢোকার সাহস দেখান না। তবে কতদিন নিরাপত্তা রাখা হবে সেটা স্পষ্ট নয়। যেহেতু ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সেখানে প্রচুর লোহার সামগ্রী পড়ে আছে তাই কেউ সেসব চুরি না করে তাই পাহারায় রাখা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের। যদিও দমকল বিভাগের রিপোর্ট এখনও পুলিশের হাতে আসেনি। ফলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও যে সব পরিবারের হাতে দেহাংশ তুলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যাতে অবিলম্বে ডেথ সার্টিফিকেট পায়, সে ব্যাপারে বারুইপুর পুলিশ জেলার তরফ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
১৮ জনের ডিএনএ পরীক্ষার ফল আসার পর ১৬ জনের দেহাংশ মৃতদের বাড়ির লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দুজনের রিপোর্ট নিয়ে কিছু সমস্যা হওয়ায় আবার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে বাকি ৯ জনের ডিএনএ রিপোর্ট কবে আসবে তার কোনো খবর এখনও পুলিশের কাছে নেই বলে জানা গিয়েছে। যদিও মৃতদের পরিবার চাইছে, দ্রুত রিপোর্ট আসুক। তবে এখনও ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া এবং তার পরবর্তী কাজকর্ম কবে হবে তার দিকে তাকিয়ে এইসব পরিবার।