Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

বদলে গিয়েছে বুড়িশোল, ধোপে টিকছে না বিজেপির অনুন্নয়নের প্রচার

রাজ্য সড়কের ধারে ছোট্ট গ্রাম বুড়িশোল। মূলত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের বসবাস। সবার আয়-উপার্জন কম হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

বদলে গিয়েছে বুড়িশোল, ধোপে টিকছে না বিজেপির অনুন্নয়নের প্রচার
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বুড়িশোল: রাজ্য সড়কের ধারে ছোট্ট গ্রাম বুড়িশোল। মূলত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের বসবাস। সবার আয়-উপার্জন কম হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। আর সেই বুড়িশোলকে টার্গেট করেছে বিজেপি।  চুপিসারে গ্রামের মানুষের কাছে অনুন্নয়ন নিয়ে প্রচার করছেন বিজেপির নেতারা। তাতেই ক্ষুব্ধ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। জঙ্গলমহলের একদা অশান্ত বর্তমানে শান্ত এই ছোট্ট গ্রামকে কেন্দ্র করে রাজনীতির উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে বাক্‌যুদ্ধ এখন চরমে। তৃণমূল নেতারা বিজেপিকে পাল্টা দিয়েছেন এই বলে, বুড়িশোল গ্রামে ৫৫টি পরিবারের বসবাস। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ৪৪টি পরিবার বাড়ি পেয়েছে। এছাড়াও পানীয়জল, রাস্তাঘাটের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। গ্রামের ভোটারদের ভুল বোঝাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। প্রশাসনও বলেছে, গ্রামে নিয়মিত যান ব্লকের আধিকারিকরা। তাঁরা ওই গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছেন। কয়েকমাস আগেও বুড়িশোল গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প বসেছে। সেই ক্যাম্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। 

Advertisement

শালবনী ব্লকের বিডিও রোমান মণ্ডল বলেন, ‘শালবনী ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মতন এই গ্রামের মানুষও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন করে আরও বেশকিছু প্রকল্পের রূপায়ণ হবে।’ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘ওই গ্রামের মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। মনে হয় বিজেপির নেতারা চোখে দেখতে পান না। মিথ্যে প্রচার করাই ওঁদের কাজ। ভুল বোঝালেও মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।’ মাওবাদী আন্দোলনের জেরে থমকে ছিল জঙ্গলমহলের সার্বিক উন্নয়ন। তার প্রভাব পড়ে বুড়িশোল গ্রামেও। সেই সময় গ্রামে মাটির রাস্তা ছিল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা টুকু পেতেন না গ্রামবাসীরা। তবে, ২০১৩ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তাতে খুশি গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, এই গ্রামের ভিতরে পাকা রাস্তা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে পড়ুয়ারা। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলেও সমস্ত ধরনের সুযোগ-সুবিধা মেলে। এছাড়া গ্রামের মানুষ ৩টি পানীয় জলের প্রকল্প ও খাদ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পান। 
 বুড়িশোল গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব ভূঁইয়ার কথায়, ‘গ্রামের অনেকেই মেদিনীপুর পুরসভায় দিন মজুরের কাজ করেন। কয়েকজন বাড়ি তৈরি করেছেন।’ যদিও জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইতের দাবি, ‘বুড়িশোল গ্রামে একটাও কাজ হয়নি। মানুষ খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েছে। তৃণমূল বিধায়কের এবিষয়ে নজর নেই। অনেকের পরিচয় পত্র টুকু নেই। ধিক্কার জানাই।’ পাল্টা জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, ‘উন্নয়ন এমনই একটি জিনিস, যা লুকিয়ে রাখা যায় না। ওই গ্রামের মানুষকে পাশে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি নেতারা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ