Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহরের ‘লাইফলা‌ইন’ বাঁকা নদ সংস্কার, সহযোগিতা করবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

অবশেষে সংস্কার হতে চলেছে বর্ধমান শহরের ‘লাইফ লাইন’ বাঁকা নদ। রথতলা থেকে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে।

শহরের ‘লাইফলা‌ইন’ বাঁকা নদ সংস্কার, সহযোগিতা করবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অবশেষে সংস্কার হতে চলেছে বর্ধমান শহরের ‘লাইফ লাইন’ বাঁকা নদ। রথতলা থেকে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে। প্রশাসন সূত্রে  জানা গিয়েছে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল সহায়তার কাজ করা হবে। একমাস আগে একটি বৈঠকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ এই কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বৈঠকের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ,  মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে আমরা ফের একটি বৈঠক করব। তারপরেই খাল ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। অর্থ কোনও সমস্যা হবে না। বিভিন্ন তহবিলের টাকা এই কাজে ব্যবহার করা হবে।

Advertisement

শহরের বাসিন্দারা বলেন, বাঁকা নদ সংস্কার করা হলে বর্ধমানের নিকাশি সমস্যা অনেকটা মিটে যাবে। এই নদের দু’পাড় জবরদখল হয়ে গিয়েছে। আবর্জনা ফেলার জন্য নদ মজে গিয়েছে। বহুদিন ধরেই বাঁকা সংস্কারের দাবি উঠছে। শহরের সমস্ত স্তরের নাগরিক সংস্কারের দাবি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। অবশ্য সেই কাজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। 
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক বলেন, সংস্কারের কাজ কীভাবে হবে তার রূপরেখা  ইতিমধ্যেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসনকেও তা দেওয়া হয়েছে। যে করেই হোক না কেন বাঁকা সংস্কার করা হবেই। তাছাড়া আগামী দিনের বর্ধমান শহর বাঁচানো যাবে না। অল্প বৃষ্টি হলেই পুরো শহর জলের তলায় চলে যাবে। 
এক আধিকারিক বলেন,  শহরের  বিস্তীর্ণ এলাকা দিয়ে এই খাল গিয়েছে। তা সংস্কার করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় হবে। সেই টাকা জোগাড় করাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক অবশ্য বলেন, এধরনের কাজ করার জন্য বিভিন্নভাবে তহবিল পাওয়া যায়। সেগুলি কাজে লাগাতে হবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট করবে। কম খরচে কীভাবে এই কাজ করা যাবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 
শহরের বাসিন্দারা বলেন, একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। ব্যবসা-বাণিজ্য হতো। এখন বাঁকা কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। দু‌’-তিনদিন ভারী বৃষ্টি হলেই জল বাঁকা টপকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে যায়। এর জন্য বাসিন্দাদের অনেকেই দায়ী। বাঁকার পাড় দখলের কাজ সেই বাম আমল থেকে শুরু হয়েছে। সেই রেওয়াজ এখনও চলছে। পাড় দখলের প্রতিবাদ করলে এই সমস্যা তৈরি হতো না।  প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার বাঁকা সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে কাজ শুরু করা যায়নি। এবার তেমনটা হবে না। একাধিক দপ্তর এই কাজে শামিল হচ্ছে। আধিকারিকরা আগের চেয়ে অনেকে বেশি তৎপর হয়েছেন। সেকারণেই এবার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠকেই কাজের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ