Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অনুশীলনে বুমরাহ, হোটেলেই বিশ্রাম নিলেন শুভমান-ঋষভ, গাভাসকরকে টপকানোর সুযোগ যশস্বীর সামনে

শুক্রবার অনুশীলন করেননি। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে

অনুশীলনে বুমরাহ, হোটেলেই বিশ্রাম নিলেন শুভমান-ঋষভ, গাভাসকরকে টপকানোর সুযোগ যশস্বীর সামনে
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

এজবাস্টন: শুক্রবার অনুশীলন করেননি। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তাহলে কি অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন না যশপ্রীত বুমরাহ? শনিবার অবশ্য পুরোদমে প্র্যাকটিস করলেন তিনি। তবে তারপরও সংশয় কাটছে না। একা বুমরাহ নন, এদিন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও নেটে বল করলেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার এই দুই পেসারই ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। এদিন হাত ঘোরালেন হেডিংলে টেস্ট খেলা আর এক পেসার মহম্মদ সিরাজও। তবে বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে ধোঁয়াশা থাকছেই। কারণ, অর্শদীপ সিং ও আকাশ দীপকেও তৈরি রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম টেস্টে ভারতের পেস বোলিংয়ে বুমরাহ ছাড়া কাউকেই বিধ্বংসী দেখায়নি। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। তবে ‘বুমবুম’ও দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটহীন ছিলেন। আর অন্য পেসাররা বেন ডাকেটদের রানের গতি আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই পরিস্থিতিতে বুমরাহ না খেললে কী করুণ দশা যে হবে, ভাবতেই আতঙ্কিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। ৩১ বছর বয়সি এই সিরিজে তিনটির বেশি টেস্ট খেলবেন না বলে আগেই ঘোষিত। তার উপর প্রথম টেস্টে তিনি ৪৪ ওভার বল করেছেন। 
এদিন অবশ্য প্র্যাকটিসে আসেননি ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল, সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ, লোকেশ রাহুল, যশস্বী জয়সওয়ালরা। শুক্রবার এই চারজন দীর্ঘসময় ধরে ব্যাট করেছিলেন। তার মধ্যেও গিল-পন্থ বেশি সময় কাটান ব্যাট হাতে। ব্যাটারদের মধ্যে নেটে প্রথমে যান সাই সুদর্শন। হেডিংলে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু শূন্য করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রিজে জমে গিয়েও ৩০ রানে থেমে যান। এদিন লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করেন সুদর্শন। প্র্যাকটিসে দেখা যায় পাঞ্জাব কিংসের বোলার হরপ্রীত ব্রারকে। তিনি কিছুক্ষণ বলও করেন । হরপ্রীত যদিও দলে যোগ দেননি।
এদিকে, এজবাস্টন টেস্টে রেকর্ডের সামনে যশস্বী। লিডসে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে রান পাননি বাঁ-হাতি ওপেনার। ফেলেন চারটি ক্যাচও। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি অবশ্য ৪৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙার পথে। ২০ টেস্টে এখনও পর্যন্ত যশস্বী করেছেন ১৯০৩ রান। প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম ২০০০ রানে পৌঁছনোর হাতছানি তাঁর সামনে। সুনীল গাভাসকর টেস্টে ২০০০ রানে পৌঁছেছিলেন ২৩ ম্যাচে। এই তালিকায় পরপর রয়েছেন গৌতম গম্ভীর (২৪ টেস্ট), রাহুল দ্রাবিড় (২৫ টেস্ট), বীরেন্দ্র সেওয়াগ (২৫ টেস্ট), বিজয় হাজারে (২৬ টেস্ট)। আর ৯৭ রান করলেই যশস্বী টপকে যাবেন গাভাসকরকে। তবে এক্ষেত্রে সার্বিকভাবে রেকর্ড রয়েছে ডন ব্র্যাডম্যানের। তিনি ১৫ টেস্টে পৌঁছন ২০০০ রানে।
ইনিংসের নিরিখে ভারতীয়দের মধ্যে ২০০০ রানে দ্রুততম রাহুল দ্রাবিড়। তিনি নেন ৪০ ইনিংস। তাঁর পর আছেন বীরেন্দ্র সেওয়াগ (৪০), বিজয় হাজারে (৪৩), গৌতম গম্ভীর (৪৩) ও সুনীল গাভাসকর (৪৪)। যশস্বী এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ৩৮ ইনিংস। তাই ইনিংসের নিরিখে দ্রাবিড়কেও টপকে যেতে পারেন তিনি। 

Advertisement

 

আতঙ্কের এজবাস্টনে জিতলেই ইতিহাসে গিল

লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাঁচটি সেঞ্চুরি সত্ত্বেও হেরেছে ভারতীয় দল। গড়েছে লজ্জার রেকর্ড। সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া শুভমান গিল ব্রিগেড। তবে কাজটা সহজ নয়। কারণ দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু যে বার্মিংহামের এজবাস্টন! এই মাঠে কখনও জয়ের মুখ দেখেনি টিম ইন্ডিয়া। আট ম্যাচ খেলে হেরেছে সাতটিতেই। ড্র একটি। তাই বুধবার থেকে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্টে জিতলেই অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়বেন গিল। কাটবে প্রায় ছয় দশকের খরা।

পতৌদির মতোই কাঁটায় বিদ্ধ ধোনি-কোহলি
১৯৬৭ সালে এজবাস্টনে প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ভারত। হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদি। পরবর্তীকালে ক্যাপ্টেন হিসেবে ব্যর্থতার সেই রেকর্ডই বহন করেছেন অজিত ওয়াদেকর (১৯৭৪), এস ভেঙ্কটরাঘবন (১৯৭৯), মহম্মদ আজহারউদ্দিন (১৯৯৬), মহেন্দ্র সিং ধোনি (২০১১), বিরাট কোহলি (২০১৮) ও যশপ্রীত বুমরাহ (২০২২)।

একমাত্র ড্রয়ে কপিলই 
সফলতম অধিনায়ক
এজবাস্টনে দীর্ঘ ৫৮ বছরের জয়হীন অভিযানেও খানিকটা স্বস্তি মিলেছিল ১৯৮৬ সালে। অপয়া এই মাঠে ভারতকে একমাত্র ড্রয়ের মুখ দেখানো অধিনায়ক ছিলেন কপিল দেব। প্রথম ইনিংসে ইংল্যন্ড ও ভারত, দুই দলেরই সংগ্রহ ৩৯০। দ্বিতীয় ইনিংসে গাভাসকর, অমরনাথদের সামনে ২৩৬ রানের টার্গেট রাখে আয়োজক দল। শেষদিনে ৫ উইকেটে ১৭৪ রান করে ভারত। ম্যাচ ড্র হলেও পরিসংখ্যান অনুসারে কপিলই এজবাস্টনে সফলতম ভারতীয় অধিনায়ক।

 

বিরাটের দুরন্ত সেঞ্চুরিতেও রেকর্ড বদলায়নি

কেরিয়ারের অন্যতম সেরা টেস্ট ইনিংসটি এজবাস্টনে খেলেছিলেন বিরাট কোহলি। ২০১৮ সালে সিরিজের প্রথম টেস্টে অ্যান্ডারসন-ব্রডদের বিষাক্ত সুইং সামলে হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি (১৪৯)। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৮৭ রানের জবাবে ২৭৪ রানে থামে টিম ইন্ডিয়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে রুট-কুকরা গুটিয়ে যান মাত্র ১৮০ রানে। ভারতের টার্গেট দাঁড়ায় ১৯৪। কোহলির হাফ-সেঞ্চুরি (৫১) সত্ত্বেও সেই ছোট্ট লক্ষ্য অধরাই থেকে যায়। ভারত থামে ১৬২ রানে।

 

যে সব ভেন্যুতে 
জয় পায়নি ভারত

কেনসিংটন ওভাল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) 
৯ ম্যাচ, ৭ হার, ২ ড্র
এজবাস্টন (ইংল্যান্ড)
 ৮ ম্যাচ, ৭ পরাজয়, ১ ড্র
ওল্ড ট্রাফোর্ড (ইংল্যান্ড)
৯ ম্যাচ, ৪ হার, ৫ ড্র
গদ্দাফি স্টেডিয়াম (পাকিস্তান)
৭ ম্যাচ, ২ হার, ৫ ড্র
জর্জটাউন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
৬ ম্যাচ, ৬ ড্র

বধ্যভূমিতে ভারতের সেরা পারফর্মার
এজবাস্টনে ভারতের সফলতম ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। ৫৭.৭৫ গড়ে করেছেন ২৩১ রান। এছাড়া এই মাঠে দুশোর বেশি রান রয়েছে সুনীল গাভাসকর (২১৬) ও ঋষভ পন্থের (২০৩)। আর এখানে দশটির বেশি উইকেট নেওয়া একমাত্র ভারতীয় বোলার চেতন শর্মা। ১৯৮৬-তে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৮৮ রানে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ