Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টিকিয়াপাড়ায় রেলের জমিতে চলল বুলডোজার, উচ্ছেদ শতাধিক ঝুপড়ি

টিকিয়াপাড়ায় রেলের জমিতে বেআইনি ঝুপড়ি উচ্ছেদে নামল রেল কর্তৃপক্ষ। শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। বিস্তারিত পড়ুন।

টিকিয়াপাড়ায় রেলের জমিতে চলল বুলডোজার, উচ্ছেদ শতাধিক ঝুপড়ি
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষার আগে রেললাইনের ধারের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে মঙ্গলবার টিকিয়াপাড়ায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা বেআইনি ঝুপড়ি উচ্ছেদে নামল রেল কর্তৃপক্ষ। টিকিয়াপাড়া বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় দু’টি বুলডোজার নিয়ে চালানো হয় এই অভিযান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ, আরপিএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

Advertisement

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রেলের ওই জমিতে শতাধিক পরিবার ঝুপড়ি তৈরি করে বসবাস করছিল। এলাকার পাশ দিয়েই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়া স্টেশনগামী রেললাইন রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুপড়িগুলির কারণে রেললাইনের ধারে থাকা বড় নিকাশি নালাগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে রেলপথ এবং সংলগ্ন এলাকায় জল জমে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই দখলমুক্ত করে নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিনের অভিযানে রেললাইন সংলগ্ন একশোরও বেশি ঝুপড়ি ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ ঘিরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উচ্ছেদ অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। বাসিন্দা রেহানা খাতুন ও দিলদার শেখের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁরা সেখানে এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। এমনকি, ঝুপড়িতে থাকার জন্য প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ তাঁদের। স্থানীয় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি ওই টাকা তুলতেন বলে দাবি বাসিন্দাদের। উচ্ছেদের ফলে মাথার উপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বহু পরিবার। তাঁদের প্রশ্ন, এখন তাঁরা কোথায় যাবেন? 
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিকাশি নালা পরিষ্কার করে বর্ষাকালে রেললাইনে জল জমার সমস্যা রোধ করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বস্তি খালি করার জন্য আগেই বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শালিমার রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলের জমিতে অবৈধভাবে দোকান চালানোর অভিযোগে ব্যবসায়ীদের উঠে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শালিমার এলাকাতেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ