নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শনিবার নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতাল চত্বরে বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ও স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। সকাল ৯টা নাগাদ দোকান, স্টল উচ্ছেদ করার জন্য জেসিবি হাসপাতাল চত্বরে আসে। আধ ঘণ্টা পর ভাঙার কাজ শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সাউ, জনস্বাস্থ্য স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ভিক্টর মণ্ডল সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বেলা ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট ভাঙা ও সরানোর কাজ চলতে থাকে। ওই জায়গায় একটি ক্লাবও রয়েছে। সেই ক্লাবকেও সাতদিনের নোটিস দিয়েছিল পঞ্চায়েত সমিতি। রাতারাতি ক্লাবের লোকজন বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেয়। আপাতত ওই ক্লাবকে এদিন রেহাই দেওয়া হয়েছে।
গত ২১মে নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে জেলা হাসপাতাল চত্বরে সরকারি জায়গা দখল করে থাকা ২৭টি দোকানঘর ও স্টল সরানোর জন্য নোটিস ইস্যু করেছিল। দোকানপাট ও স্টল সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন তাঁদের দোকানপাট ভেঙে ফাঁকা করে দেন। যদিও বেশিরভাগ দোকান রয়ে গিয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই সেইসব দোকান, স্টল ভাঙার কাজ শুরু হয়। হাসপাতালের সামনের অংশ খালি করে দেওয়া হয়েছে।
এদিন হলদিয়া শহরের সিটি সেন্টার এলাকাতেও বুলডোজার চালিয়ে প্রায় ৫০টি ঝুপড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এইচডিএর উদ্যোগে ওই অভিযান চলে। বেলা ১১টা নাগাদ বুলডোজার নামানো হয়। আড়াই ঘণ্টা অপারেশন চলে। দোকানপাট, গ্যারেজ, বাসস্থান সহ প্রায় ৫০টি ঝুপড়ি গড়ে উঠেছিল। গত সোমবার পাঁচদিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিস দিয়েছিল এইচডিএ। অধিকাংশ ঝুপড়ি থেকে যাওয়ায় এদিন অভিযান চালানো হয়।
নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং ওই স্ট্যান্ড থেকে টেঙ্গুয়া পর্যন্ত পূর্তদপ্তরের রাস্তার দু’ধারে সরকারি জায়গার উপর সমস্ত দোকানপাট, স্টলও ভাঙা হবে। এনিয়ে মাইকিং হয়ে গিয়েছে। ইদের পরই বুলডোজার চলবে বলে জানিয়েছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সাউ। সেইমতো শনিবার হাসপাতাল চত্বর ফাঁকা করে দেওয়া হয়। এরপর বাসস্ট্যান্ড চত্বরও ফাঁকা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কারণ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের(এডিবি) ১২০০কোটি টাকা আর্থিক সহায়তায় জলপ্রকল্পের কাজ জোর গতিতে চলছে। নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ওই প্রকল্পের পাইপলাইন পাতা হবে। সেজন্য পূর্ত দপ্তরের উপর থাকা প্রায় একশো দোকানপাট, স্টল উচ্ছেদ হবে।
শ্যামলবাবু বলেন, প্রশাসনিক স্তর থেকে দোকানদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, আগের সরকার থাকাকালীন তৃণমূল নেতাদের অঙ্গুলিহেলনে উচ্ছেদ করা যায়নি। হাসপাতালের সামনে জায়গা সঙ্কুচিত হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ঠিকমতো ঢুকতে পারত না। তাই বর্তমান সরকার এনিয়ে উদ্যোগী হয়। মাইকিং করা হয়েছিল। নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। তারপর উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর করা হল।