আসানসোলের ধেমোমেনে তৃণমূল নেতার অফিস ও পেট্রল পাম্পে চলল বুলডোজার
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবার আসানসোল দক্ষিণ থানার ধেমোমেন এলাকায় একদা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার অফিস ও পেট্রল পাম্পে বুলডোজার চলল। রোহিত নুনিয়া নামে ওই নেতা ইসিএলের জমি জবরদখল করে জিটি রোডের পাশে পেট্রল পাম্প ও অফিস গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, রোহিত বাম আমলে বামফ্রন্টের কাউন্সিলার ছিলেন। জোড়াফুল ক্ষমতায় আসতেই শিবির বদলে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন। ছেলে সঞ্জয় নুনিয়াকে এলাকার বরো চেয়ারম্যান করা হয়। এহেনও প্রভাবশালী নুনিয়া পরিবারের সম্পত্তিতে বুলডোজার চলায় শিল্পাঞ্চলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। 

Advertisement

রবিবার লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে জিটি রোডের উপর ধেমোমেন কোলিয়ারি মোড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ইসিএলের  নিরাপত্তারক্ষী ও সিআইএসএফ এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে আসে একের পর এক বুলডোজার। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসিএলের জমি জবরদখল করে বিলাসবহুল অফিস ও পেট্রল পাম্প বানিয়েছিলেন রোহিত নুনিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন। নিয়ম মেনে আগাম নোটিস দেওয়ার পর এদিন উচ্ছেদ অভিযান হয়। নুনিয়া পরিবারের কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হলেও অনুগামীরা এলাকায় ভিড় জমান। জিটি রোডের পাশে থাকা এই অফিস থেকেই কার্যত বরাচক রেলওয়ে সাইডিং নিয়ন্ত্রণ করতেন রোহিত নুনিয়া ও তাঁর টিম। অফিসে বুলডোজার চালানো শুরু হতেই সেই এলাকায় কাজ করা মহিলারাও জমায়েত হন। তাঁরা এই উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদ করেন। বিশাল পুলিশ বাহিনীর কাছে তাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। অফিস থেকে জিনিসপত্র বের করে নেওয়ার সময় দেওয়া হয় অনুগামীদের। জিনিসপত্র বের হতেই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। 
ধেমোমেন গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, নুনিয়া পরিবার এই এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। জোর করে গ্রামের মানুষের জমিও দখল করে নিত। অন্য কাউকে জমি বিক্রি করতে দিত না। এই ভয়ের পরিবেশ এখন মুক্ত হয়েছে। রোহিত নুনিয়ার বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করা শ্রমিকদের দাবি, এলাকার বিধায়ক অজয় পোদ্দার এই উচ্ছেদ অভিযান করিয়েছেন। যার জেরে তাঁরা কাজ হারালেন। তাঁদের প্রশ্ন, ২০বছর ধরে এই অফিস রয়েছে। ইসিএল আগে কেন পদক্ষেপ নিল না?
কুলটির বিধায়ক অজয় পোদ্দারের ছেলে বিজেপি নেতা কেশব পোদ্দার বলেন, এতদিন রাজ্যে আইনের শাসন ছিল না, শাসকের আইন ছিল। তাই শাসকদল করলেই বেনিয়ম করা যেত। শুভেন্দু অধিকারী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে দলতন্ত্র মুক্ত প্রশাসন চলছে। সরকারি জমি দখল করে নিজের রাজত্ব করতে পারবে না। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে ইসিএল পদক্ষেপ নিয়েছে।