সংবাদদাতা, ইটাহার: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ইটাহারে বুলডোজারের দাপট অব্যাহত। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের জায়গা দখলমুক্ত করতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল রাস্তার ধারের স্থায়ী দোকানের অংশ। শনিবার সকাল থেকে একাধিক দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এতে সমস্যায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের জায়গা বাদেও বেশি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
ইটাহারের সরাইদিঘি থেকে বিধিবাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিমি রাস্তার দু’ধার ছিল কার্যত ব্যবসায়ীদের দখলে। পূর্বতন সরকারের আমলে একাধিকবার নোটিস দেওয়া হলেও দখলমুক্ত হয়নি সরকারি জায়গা। পালাবদল হতেই সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। সেই মতো জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তার দু’ধারের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে ১০ দিনের সময় দিয়ে শতাধিক ব্যবসায়ীকে নোটিস ধরায়। মাইকিং করেও ব্যবসায়ীদের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী জায়গা ফাঁকা করলেও অনেকে করেননি। তাই শনিবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতে চৌরঙ্গী এলাকায় সরকারি জায়গার উপরে থাকা একাধিক স্থায়ী দোকানের শেড, বারান্দা, দেওয়াল ও ঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সঠিকভাবে না মেপে ব্যক্তিগত জায়গাও নির্বিচারে ভেঙে দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ী শংকর সাহা বলেন, নোটিস দিয়েছিল, সেই মতো আমি দোকান ভেঙে দিয়েছিলাম। খানিকটা ভাঙা বাকি ছিল। আজ বুলডোজার এসে পুরোটাই ভেঙে দিয়েছে। আব্দুল লতিফের অভিযোগ, কতটা জায়গা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের, সেটা সঠিকভাবে না দেখিয়েই আমার মার্কেট কমপ্লেক্সের শেড সহ সিড়ি ভেঙে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বলেও লাভ হল না। যদিও ব্যবসায়ীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের তরফে অভিজিৎ দাস বলেন, আমরা নিয়ম মেনে জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করেছি। নোটিস দিয়ে মাপ দেওয়া ছিল।