Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বুলডোজারে দুরমুশ পাথরার ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, প্রশাসনের দ্বারস্থ মন্দির বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ইয়াসিন

ঐতিহাসিক মন্দিরময় পাথরায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল তিনশো বছরের প্রাচীন স্থাপত্য। গর্জে উঠলেন মন্দিরময় পাথরার প্রাণপুরুষ ইয়াসিন পাঠান।

বুলডোজারে দুরমুশ পাথরার ৩০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, প্রশাসনের দ্বারস্থ মন্দির বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ইয়াসিন
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ঐতিহাসিক মন্দিরময় পাথরায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল তিনশো বছরের প্রাচীন স্থাপত্য। গর্জে উঠলেন মন্দিরময় পাথরার প্রাণপুরুষ ইয়াসিন পাঠান। তাঁর অভিযোগ, তিনশো বছরের প্রাচীন ‘সুড়ঙ্গ অট্টালিকা’ দুরমুশ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি জেলা প্রশাসন এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) দ্বারস্থ হয়েছেন। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল মেদিনীপুর শহরের অদূরে পাথরা এলাকায়। 

Advertisement

জেলাবাসীর মতে, মন্দিরময় পাথরা আর ইয়াসিন পাঠান যেন সমার্থক। গত ৫০ বছর ধরে শতাব্দী-প্রাচীন ৩৪টি হিন্দু মন্দির বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন ইয়াসিন ভাই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পেয়েছেন ‘কবীর পুরস্কার’। সেই ইয়াসিন সাহেবই আবারও গর্জে উঠলেন সুপ্রাচীন স্থাপত্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়।
টেরাকোটায় অলংকৃত পাথরার শতাব্দী-প্রাচীন অনেকগুলি মন্দির চলে গিয়েছে কংসাবতী নদীর করাল গ্রাসে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে পাথরা পুরাতত্ত্ব সংরক্ষণ কমিটি গড়ে তুলে ৪২টি মন্দির রক্ষা করতে সমর্থ হন ইয়াসিন পাঠান। তার মধ্যে ৩৪টি সংরক্ষণ ও সংস্কার করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সংস্থা (এএসআই)। নবরত্ন মন্দির, কাছারি মহল, রাসমঞ্চ, কালাচাঁদের দালান, দুর্গেশ্বর মন্দির, পঞ্চ শিবমন্দির প্রভৃতির টানে পাথরায় যান পর্যটকরা। আর সেখানেই বন্দ্যোপাধ্যায়দের জমিতে ছিল সুড়ঙ্গ যুক্ত সুপ্রাচীন স্থাপত্য বা অট্টালিকা। মাস ছয়েক আগে সেই জমিটি কেনেন লালু পাল নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি পাথরা সংলগ্ন ভবানীনগরে। ইতিহাস জেনে বা না জেনেই, তিনি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন সেই প্রাচীন স্থাপত্য। ইয়াসিন সাহেবের অভিযোগ, জায়গাটি রায়ত হলেও এইভাবে প্রাচীন স্থাপত্য ধ্বংস করা যায় না। এনিয়ে সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে। মাস ছয়েক আগে মেদিনীপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের থেকে এই জায়গাটি কিনেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। সেইসময় থেকেই অসুস্থ শরীরেও আমি চোখে চোখে রেখেছিলাম। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্থাপত্য টিকে ছিল। তারপরই নির্বাচনের সময়, প্রশাসনিক টালবাহানার সুযোগ নিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আমি প্রশাসন থেকে এএসআই, সর্বত্র অভিযোগ জানিয়েছি।
অভিযুক্ত লালু পাল বলেন, বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। আমি ইতিহাস না জেনেই একাজ করেছি। অন্যদিকে, ইয়াসিন সাহেবের দাবি, মাটি সমতল করা হলেও নিচে এখনও সুড়ঙ্গ আছে। তাই সুপ্রাচীন ইঁটগুলি সংগ্রহ করে চুন, সুড়কি দিয়ে পুনরায় স্থাপত্য গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রশাসন সেই উদ্যোগ নিক। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ