নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পছন্দ করে মোদি সরকার। বারংবার ঘুরে ফিরে সাধারণ মানুষ যে সেক্টরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, বিগত ১২ বছর ধরে সেই ব্যাংক পরিকাঠামোর অবিরাম অদলবদল করে চলেছে কেন্দ্র। ২৭টি থেকে আজ ১২টিতে এসে ঠেকেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং সেক্টর। কারণ মোদি সরকার মনে করে সরকারের কাজ ব্যাংক চালানো নয়। অতএব একসঙ্গে অনেক সরকারি ব্যাংক রাখার দরকার নেই। তাই ২০১৭ সালের পর থেকে শুরু হয়েছে ব্যাংক সংযুক্তিকরণ। এখানেই শেষ নয়। ঘোষণা করা হয়েছে এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চলবে। অর্থাৎ হয় সংযুক্তিকরণ নাহলে বেসরকারিকরণ। ২টি বৃহৎ ব্যাংক থাকবে সরকারের হাতে। ক্ষমতাসীন হওয়ার দু’বছরের মধ্যে নোট বাতিল করে আলোড়ন তুলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ব্যাংকিং সেক্টরে একপ্রকার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। ক্ষমতাসীন হওয়ার দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ করে আবার ব্যাংকিং সেক্টরের ভোলবদলে উদ্যোগী মোদি সরকার? রবিবার সংসদে পেশ করা বাজেটে সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে ব্যাংকিং সেক্টরের ভূমিকা পর্যালোচনার জন্য। লক্ষ্য কী? ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের উপযোগী যেন একটি ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। কী সেই উপোযোগী ব্যাংকিং সেক্টর? মূল লক্ষ্য হবে, ঋণ প্রদান ব্যবস্থার আরও আগ্রাসী পেশাদারিত্ব অর্জন। আমানত এবং ঋণের যে আনুপাতিক ভারসাম্য সেটি বজায় রাখা। নন ব্যাংকিং সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও যোগ্য এবং পেশাদার হিসাবে গড়ে তোলা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গ্রাহকের কাছে ব্যাংক কীভাবে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য একটি আর্থিক পরিষেবাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, তার রূপরেখা নির্মাণ। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পাওয়ার ফিনান্স কর্পোরেশন এবং রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন কর্পোরেশনকে সম্পূর্ণ নতুন করে ঢেলে সাজা হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার আবার কী কী ভোলবদল হতে চলেছে সেই প্রশ্ন রবিবার থেকেই উত্থাপিত হচ্ছে। অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা সচিব নাগারাজু বলেছেন, ব্যাংকিং সেক্টরের মধ্যে যে অগোছালো পরিকাঠামো আছে, সেটিকে আরও শক্তপোক্ত করা হবে। একইভাবে ক্রেডিট ও ডিপোজিটের অনুপাত নিয়ে এখনও অনেক পথ হাঁটতে হবে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি এই প্রক্রিয়ায় আবার সরকারি ব্যাংক সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে? অর্থমন্ত্রকের কর্তা বলেছেন, সব সম্ভাবনাই ওই রিভিউ কমিটি খতিয়ে দেখবে। তারা যে সুপারিশ দেবে সেটা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।



