Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাজেট ১০-৪০ হাজার, ভ্যাপসা গরমে রেহাই পেতে শীতলতার খোঁজে ক্রেতারা

এপ্রিলে সেভাবে ঘাম ঝরেনি কলকাতার। নিয়ম করে ঝড়বৃষ্টি স্বস্তি দিয়েছে অনেকটাই। কিন্তু মে মাসে সেই স্বস্তি উধাও। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও ঘামে নাজেহাল শহরবাসী।

বাজেট ১০-৪০ হাজার, ভ্যাপসা গরমে রেহাই পেতে শীতলতার  খোঁজে ক্রেতারা
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এপ্রিলে সেভাবে ঘাম ঝরেনি কলকাতার। নিয়ম করে ঝড়বৃষ্টি স্বস্তি দিয়েছে অনেকটাই। কিন্তু মে মাসে সেই স্বস্তি উধাও। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও ঘামে নাজেহাল শহরবাসী। রাজ্যের বাকি জেলাতেও পরিস্থিতি প্রায় একই। এই গরমই ক্রেতাদের দোকানমুখী করছে এসি বা কুলার মেশিন কেনার জন্য। তাতেই হাসি ফুটেছে শোরুমের কর্তাদের। গতবার নিস্তেজ গ্রীষ্ম এসি বা কুলার বিক্রিতে যে ভাটা এনেছিল, এবার সেই খরা পুষিয়ে গিয়েছে অনেকটাই, দাবি তাঁদের। ১০ থেকে ৪০ হাজারের বাজেটেই স্বস্তির শীতল হাওয়া পেতে চাইছেন ক্রেতারা। 

Advertisement

খোসলা ইলেকট্রনিক্সের অন্যতম কর্ণধার মণীশ খোসলার কথায়, চলতি মাসের কুড়ি তারিখের আগে পর্যন্ত বিক্রিবাটা স্বাভাবিক ছিল। তারপর থেকেই এসি বিক্রির হার এক লাফে অনেকটা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো কোনো দিন স্বাভাবিকের তুলনায় এসির চাহিদা দশ গুণ বেড়েছে। গ্রাম, শহর নির্বিশেষে বিক্রির হার অত্যন্ত সদর্থক। তিনি বলেন, দেড় টনের থ্রি স্টার এবং ফাইভ স্টার রেটিং-এর এসি বিক্রি সবচেয়ে বেশি। 
প্রতিবছরই ক্রেতাদের একটা বড়ো অংশ অভিযোগ করেন, এসি মেশিন কিনলেও, তার ডেলিভারি ও ইনস্টলেশনে বিলম্ব হয়। সেই সমস্যা এবার নেই, জানিয়েছেন মণীশবাবু। তাঁর কথায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডেলিভারি পেয়েই যে ক্রেতারা খুশি হচ্ছেন, তা নয়। দামেও তাঁরা অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। প্রথমত, শীতের শেষের দিকে একসঙ্গে অনেক এসির স্টক করেছি আমরা। তাই তখনকার কম দামেই গ্রাহকরা কিনতে পাচ্ছেন। গরমে যে স্টক আসছে, তার দাম বেশি। মণীশবাবু বলেন, যতক্ষণ আমাদের স্টক আছে, ততক্ষণ আমরা ক্রেতাদের কম দামে দিতে পারব। তাছাড়া ফিনান্স সংস্থা, ব্যাংকগুলির তরফে যেমন হরেক অফার থাকছে, খোসলা নিজেও আর্থিক সুরাহার সুযোগ করে দিচ্ছে। ক্রেতারা তা উপভোগ করছেন। 
গতবারের তুলনায় এসির বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন রাইপুর ইলেকট্রনিক্সের কর্ণধার রাজিন্দর সিং রাইপুর। কুলারের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। তুলনায় রেফ্রিজারেটরের চাহিদা কিছুটা কম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয় খোঁজার জন্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পাঁচতারা এসি। কুলারের ক্ষেত্রে যেখানে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বাজেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে, তেমনই এসির ক্ষেত্রে গড় বাজেট ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। এই দামে গ্রাহকরা তাঁদের পছন্দের ব্র্যান্ড পাচ্ছেন। রাজিন্দর সিং রাইপুরের কথায়, ক্রেতারা বিভিন্ন শোরুমে দাম পরখ করে, তবেই কিনতে আসছেন। তাই প্রতিযোগিতার বাজারে তাঁদের আর্থিকভাবে সুরাহা দেওয়ার সব চেষ্টাই করছি আমরা। তাতে ক্রেতারাও খুশি। ডেলিভারির সমস্যাও যে তাঁদের নেই, জানিয়ে রাইপুর ইলেকট্রনিক্স কর্তা বলেন, আমাদের ৭০টি গাড়ি ও কর্মী নিরলস কাজ করছেন। ফলে ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি দিতে পারছি আমরা।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ