Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বট-অশ্বত্থের বিয়ে দিলেন বৃদ্ধ দম্পতি নামখানায় নিমন্ত্রিত ৩০০ গ্রামবাসী

বট-অশ্বত্থের বিয়ে দিলেন বৃদ্ধ দম্পতি নামখানায় নিমন্ত্রিত ৩০০ গ্রামবাসী
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বট গাছ হচ্ছে কনে। অশ্বত্থ গাছ হল বর। ঘটা করে বিয়ে হল তাদের। কালে কালে তাদের ডালে ফুল ফুটবে। ফলবতী হবে তারা। দু’টি বৃক্ষ থেকে জন্ম নেবে আরও আরও অনেক গাছ। রক্ষা পাবে পরিবেশ। এই আশা থেকে নামখানার উত্তর চন্দনপিঁড়ির এক বৃদ্ধ দম্পতি সরস্বতী পুজোর দিন গাছেদের বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। 
Advertisement
চারজন পুরোহিত হিন্দু শাস্ত্র মেনে বিবাহের রীতি সম্পন্ন করেন। বাঙালি বিয়ের মতো সানাই বেজেছে। নিমন্ত্রিত ছিলেন গ্রামবাসীরা। শ’তিনেক মানুষ পাত পেড়ে ভোজ খেয়েছেন। মেনুতে ছিল ভাত, আলু ভাজা, ডাল, চানা-পনির, তরকারি সহ ন’রকমের পদ। ৭৫ বছরের অশ্বিনীকুমার দেবতা ও তাঁর স্ত্রী রাধারানি দেবতা ১১ বছর আগে পুঁতেছিলেন একটি বট ও অশ্বত্থ। গাছ দু’টি এখন প্রমাণ আকারের। বৃদ্ধ দম্পতি ভাবলেন নিজেদের সন্তানের মতো এই গাছ দু›টিকেও বিয়ে দেবেন। তাঁরা মনে করেন, গাছ না কেটে তাদের দীর্ঘজীবন কামনায় আশীর্বাদ করতে হয়। তারা আরও গাছের জন্ম দেবে ভবিষ্যতে। সবুজ হবে পৃথিবী। রক্ষা পাবে পরিবেশ। রবীন্দ্রনাথ সেই কবে লিখে আমাদের জন্য ছেড়ে গিয়েছেন, ‘আমার ঘরের আশপাশে যে-সব আমার বোবা-বন্ধু আলোর প্রেমে মত্ত হয়ে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে, তাদের ডাক আমার মনের মধ্যে পৌঁছল।’
এমন নয় যে নামখানায় প্রথম গাছের বিয়ে হল। বাঙালিদের মধ্যে বট- পাকুড়ের বিয়ে দেওয়ার প্রচলন অনেকদিন ধরেই আছে। ২০২৪ সালের মে মাসে রায়গঞ্জের রূপাহার তুলসিপাড়ায় বট-পাকুড়ের বিয়ে হয়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে রায়গঞ্জের শীতগ্রামের পানিশালাতেও বট আর পাকুড়ের বিবাহ দেওয়া হয়েছিল বলে খবর। প্রায় দু’হাজার মানুষ নিমন্ত্রিত ছিলেন। এমন নয় যে, পরিবেশরক্ষার বার্তা দিতে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এই রীতি রয়েছে। ২০১৮ সালে মেক্সিকোর ওয়াক্সাকা রাজ্যের কয়েকজন মহিলা গাছ বিয়ে করেছিলেন। লক্ষ্য, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের চোখ রাঙানির সময় গোটা বিশ্বের কাছে পরিবেশরক্ষার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
আর নামখানায় বসন্ত পঞ্চমীর লগ্নে বরকর্তা অশ্বিনীকুমার দেবতা বলেছেন, ‘সন্তানের মতো দু’টি গাছ লালন করেছি। গাছ এবং পরিবেশরক্ষার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ। বটকে কনে ও অশ্বত্থকে বর সাজিয়ে টোপর পরিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ষোড়শপচারে, যজ্ঞ করে বিয়ে হয়। সকাল ১০টা থেকে বিবাহ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। শেষ হয় বিকেল পাঁচটা নাগাদ। সমাজসেবী ধীরেনকুমার দাস বলেন, ‘গাছ বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দিতে দারুণ উদ্যোগ। এই চিন্তা নামখানা ব্লকে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’  নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ