নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের ‘লক্ষ্মীলাভ’ হয়েছে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামাণের বাজেট ঘোষণায়। তদন্ত নিয়ে ঢিলেমি, বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সাফল্য নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সিবিআইয়ের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০৭১.০৫ কোটি টাকা। গতবছরের তুলনায় যা ৮৪.১২ কোটি টাকা বেশি। সিবিআইকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তি সমৃদ্ধ, দপ্তর ও আধিকারিকদের আবাসস্থলের সংখ্যা বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রে আরও জোর দিতেই এই বরাদ্দবৃদ্ধি বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জন্য প্রথমে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৯৫১.৪৬ কোটি টাকা। পরে সিবিআইয়ের অনুরোধে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৯৮৬.৯৩ কোটি টাকায়। বরাদ্দ বাড়লে, সিবিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা কি বেড়েছে? পরিসংখ্যান কিন্তু অন্য কথা বলছে। রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ঘিরে সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা এখন তলানিতে। বহু মামলা বিশ বাঁও জলে। সাজা দেওয়ানোর ক্ষেত্রেও সিবিআইয়ের সাফল্য হ্রাসমান। সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের (সিভিসি) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেবে গোটা দেশে মোট ৬৯০০টি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। এরমধ্যে ২১০০ মামলার বিচার চলছে ১০ বছর থেকে ২০ বছর সময় ধরে। এই পর্বেই ৩৬১টি এমন দুর্নীতির মামলা রয়েছে সিবিআইয়ের, যেগুলি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির জেরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার হারানো ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখতেব মুখিয়ে গোটা দেশ।



