Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথগঞ্জে বাসিন্দাদের উপর লাঠি বিএসএফের, জওয়ানদের লক্ষ্য করে পাল্টা-পাটকেল স্থানীয়দের

রাতের অন্ধকারে বিনা কারণে সাধারণ মানুষের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জের সীমান্তবর্তী মিঠিপুর এলাকায় এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

রঘুনাথগঞ্জে বাসিন্দাদের উপর লাঠি বিএসএফের, জওয়ানদের লক্ষ্য করে পাল্টা-পাটকেল স্থানীয়দের
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রাতের অন্ধকারে বিনা কারণে সাধারণ মানুষের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে রঘুনাথগঞ্জের সীমান্তবর্তী মিঠিপুর এলাকায় এঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জখম হন। এরপর গ্রামবাসীরা দল বেঁধে বিএসএফ জওয়ানদের তাড়া করেন। এঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, গোরু পাচারকারীদের সুবিধা করে দিতেই এলাকা খালি করতে বিএসএফ লাঠিচার্জ করেছে। খবর পেয়ে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মন্ত্রী এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এমন অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্ত্রী জানান। সোমবার সকালে স্থানীয়রা ফের বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। সিপিএমের কৃষক সমিতিও বিক্ষোভে অংশ নেয়।

Advertisement

এবিষয়ে বিএসএফের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিএসএফের ডিআইজি(দক্ষিণবঙ্গ) জি এন কে পাণ্ডেকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কথা বলার মতো সময় নেই।
অভিযোগ, মিঠিপুরে রবিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কয়েকজন বিএসএফ জওয়ান এসে আচমকা লাঠি চালায়। ষষ্ঠীতলা ঘাট, হালদারপাড়া মোড়ে পথচারীদের বেধড়ক মারধর করে। এমনকী, তারা ঘরে ঢুকে মহিলা ও বয়স্কদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ। জখম অন্তত ১২জনকে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, বিএসএফের মারে তাঁদের অনেকেরই রক্ত ঝরেছে। লাঠির আঘাতে এক যুবকের নাক ও মুখ ফেটে গিয়েছে। ওই যুবক বাদে বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় যুবক রাহুল সিংহ বলেন, আমি দোকানে কয়েকটি জিনিস কিনতে গিয়েছিলাম। বিএসএফ জওয়ানরা এসেই মারতে শুরু করে। আমার মুখ কেটে গিয়েছে। সাহেব হালদার বলেন, আমি সেলুনে দাড়ি কাটতে গিয়েছিলাম। ওরা এসেই মারতে শুরু করে। নাপিতের মুখে আঘাত করলে তাঁর ঠোঁট কেটে যায়। আমার হাতেও লাঠির বাড়ি মারে। ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসি। স্থানীয় বধূ জল্পনা হালদার বলেন, বিএসএস বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছে। ওদের শাস্তি চাই। নইলে আমরা বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
মিঠিপুর পঞ্চায়েতের প্রধান রুমা হালদার বলেন, বিএসএফ সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করেছে। মহিলারা প্রতিবাদ করলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। সাধারণ মানুষের দিকে অস্ত্র তাক করেছে। বিএসএফকে সাধারণ মানুষের উপর জুলুমের অধিকার কে দিয়েছে? রঘুনাথগঞ্জ-২এর বিডিও দেবোত্তম সরকার বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার কথা জানতে পেরে রাতেই মিঠিপুরে গিয়েছিলাম। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, বিএসএফ অকারণে সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করেছে। প্রবীণ, মহিলা, প্রসূতি কাউকে ছাড়েনি। স্থানীয়রা বলেছেন, পাচারকারীদের সুবিধা করে দিতেই বিএসএফ এমনটা ঘটিয়েছে। বিএসএফ সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করলে আমরা তা বরদাস্ত করব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ