নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ফের সীমান্তে আক্রান্ত বিএসএফ জওয়ান। অভিযোগ, গোরুপাচারে বাধা দিতেই জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মাথায় আঘাত করার পাশাপাশি জওয়ানকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার ভোরে ফাঁসিদেওয়ার কালামগছের ঘটনা। অভিযুক্ত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম মহম্মদ মুজাফ্ফর হুসেন। স্থানীয় মুড়িখাওয়া গ্রামে ধৃতের বাড়ি। ধৃতের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, মোবাইল ফোন ও গোরু উদ্ধার করা হয়েছে। এনিয়ে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ফাঁসিদেওয়া থানার ওসি চিরঞ্জিৎ ঘোষ বলেন, বিএসএফের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বিএসএফের শিলিগুড়ি সেক্টরের এক অফিসার জানান, অভিযুক্ত পাচারকারীর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মোবাইল এবং ঘটনাস্থল থেকে চারটি গোরু ও গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি পুলিসকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত জওয়ানের চিকিৎসা চলছে। পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে সীমান্তে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
চটহাটের কালামগছ কৃষিনির্ভর গ্রাম। কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় জমিতে রয়েছে চা বাগান। এপারে সব্জি খেত। বিএসএফ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরে গোরু নিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার দিকে যাচ্ছিল পাচারকারীরা। ওপারে পাল্টা জমায়েত করেছিল বাংলাদেশি পাচারকারীরা। খবর পেয়ে অভিযান চালায় বিএসএফ। তাদের দেখে পাচারকারীরা গোরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পাল্টা ধাওয়া করেন বিএসএফ জওয়ানরা। তাঁদের মধ্যে কনস্টেবল ললিত আলাদা হয়ে যান। তাঁকে লক্ষ্য করে জঙ্গল থেকে গুলি ছোড়া হয়। তখনই দৌড়ে গিয়ে ললিত অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন। তাঁর মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে অভিযুক্ত। তাতেও তিনি অভিযুক্তকে ছাড়েননি। এরপর মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে ললিতকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় অন্য জওয়ানরা ছুটে এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন।
বিএসএফ অফিসাররা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাচারকারীদের সঙ্গে লড়াই করেছেন ওই জওয়ান। তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রসঙ্গত মালদহ, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্তে বিএসএফের উপর এরআগে আক্রমণ হয়েছে। এবারই প্রথম ফাঁসিদেওয়া সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটল।