নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যৌথভাবে পেট্রোল পাম্প তৈরির টোপ দিয়ে মহিলা ব্যবসায়ীর ২৯ লক্ষ হাতানোর অভিযোগ ওঠে বিএসএফ জওয়ান গৌতম হালদারের বিরুদ্ধে। তারপর ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে যোগ না দিয়ে লুকিয়ে বেড়াতে থাকেন যুবক। আত্মগোপন করতে একটি মিষ্টির দোকানে ম্যানেজারের কাজ শুরু করেন। যদিও শেষরক্ষা হল না, মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিস।
যুবক ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন ওই দোকান মালিকের অ্যাকাউন্টে। সেই লেনদেনের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত গড়িয়াহাট থানার হাতে ধরা পড়ে গেল এক বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক গৌতম। প্রতারণার টাকা কোথায় রেখেছে তাঁকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
নদীয়ার তেহট্টের বাসিন্দা ওই জওয়ানের পোস্টিং ছিল রাজস্থানে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ছুটিতে বাড়ি ফেরেন। পুলিস জেনেছে, ওই মাসে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গড়িয়াহাট এলাকায় এসে পরিচয় হয় এক মহিলার সঙ্গে। গৌতম তাঁকে জানিয়েছিলেন, পেট্রোলিয়াম দপ্তরে পরিচিতি রয়েছে। তাই যে কোনও জায়গায় পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স অনায়াসে বের করতে পারবে। যৌথ পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায় রাজি হন মহিলা। লাইসেন্স বের করা, নতুন জমি কেনা, পরিকাঠামো তৈরির জন্য ধাপে ধাপে ওই জওয়ান ২৯ লক্ষ টাকা নেন বলে অভিযোগ। এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২০২৪-র এপ্রিলে ছুটি শেষ হওয়ার পরও অভিযুক্ত জওয়ান কাজে যোগ দেননি। কোনও কারণ ছাড়াই কাজে যোগ না দেওয়ায় তাঁর খোঁজ শুরু করে বিএসএফ। নদীয়ায় বাড়িতে পাওয়া যায়নি তাঁকে। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাঁর বিরুদ্ধে তেহট্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করে। জওয়ানের স্ত্রীও নিখোঁজের অভিযোগ করেন। প্রতারিত ব্যবসায়ী ২০২৪ সালের শেষ দিকে জওয়ানের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিস জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে।
গড়িয়াহাট থানার ওসি অঞ্জন সেনের নেতৃত্বে টিম গঠন হয়। তদন্তে নেমে পুলিস মহিলার টাকা যে অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তার ডিটেইলস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে আসে। সেই অ্যাকাউন্টে যে মোবাইল নম্বরটি সংযুক্ত ছিল সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, সিমটি অন্য এক ব্যক্তির নামে নেওয়া। এই সিম দিয়ে আবার ইউপিআই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভালো পরিমাণ টাকা যাচ্ছে বেহালার মিষ্টির দোকানের মালিকের অ্যাকাউন্টে। প্রায়ই সেখানে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা যাচ্ছে। দোকানের মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিস জানতে পারে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ঢুকছে সেটি তাঁর এক কর্মীর। ওই কর্মী আগে বিএসএফ জওয়ান ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর পূর্ব পরিচয় থাকায় তাঁর কাছে কাজ করছেন। গোডাউন দেখভাল করেন ওই কর্মী। গোডাউনে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, একবছর ধরে যাঁর খোঁজ চলছে সেই গৌতম বসে রয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে জওয়ানকে ধরা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছে, প্রতারণার টাকা অল্প অল্প করে পাচার করেছে ওই অ্যাকাউন্টে। আত্মগোপন করতে দোকানে কাজ নিয়েছে।