নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ও বিএসএফের মধ্যবর্তী সংঘাত যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে গুলির শব্দ আর রাতের বেলায় বিএসএফের টহলদারি নতুন কিছু নয়, তবে সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতীদের এই অবাধ আনাগোনা গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং পাচারে সাহায্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম ইসমাইল শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানা এলাকার লবনগোলা সীমান্ত চৌকি সংলগ্ন এলাকায়।
বিএসএফ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে ১৪৯ ব্যাটালিয়নের সি কোম্পানির একটি বিশেষ ট্র্যাকিং দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সীমান্তে ওত পেতে বসে। সেই সময় চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে ভারতের সীমানায় ঢোকার চেষ্টা করে। কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা তাদের থামতে বললেও, তারা ঘন ঝোপঝাড়ের সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাদের থামাতে শূন্যে দুই রাউন্ড গুলি চালায় বিএসএফ জওয়ানরা। গুলির শব্দে ভয় পেয়ে দু’জন জমিতে পড়ে গেলে বিএসএফ তাদের ঘিরে ফেলে এবং একজনকে ধরে ফেলে। বাকি দু’জন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
ধৃত ইসমাইল শেখ ভগবানগোলার চর বাবুপুরের বাসিন্দা। প্রাথমিক জেরায় সে স্বীকার করেছে যে টাকার বিনিময়ে সে বাংলাদেশিদের বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ এবং সীমান্ত পার করে ফিরে যেতে সাহায্য করত। বিএসএফ জানিয়েছে, অভিযুক্তের সহযোগীদের চিহ্নিত করা গেছে। লালগোলার এক যুবক এবং ভগবানগোলার এক যুবক মানব পাচারের সিন্ডিকেট চালায়। বিএসএফ ধৃতকে ভগবানগোলা থানার হাতে তুলে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজতে সীমান্ত জুড়ে তল্লাশি জারি রয়েছে।