Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইংলিশবাজারে ব্রাউন সুগারের কারখানা!, ১৬ কেজি মাদক সহ গ্রেপ্তার পাঁচ

মাদক বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল মালদহ পুলিশ। খোদ ইংলিশবাজারেই রমরমিয়ে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা।

ইংলিশবাজারে ব্রাউন সুগারের কারখানা!, ১৬ কেজি মাদক সহ গ্রেপ্তার পাঁচ
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মাদক বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল মালদহ পুলিশ। খোদ ইংলিশবাজারেই রমরমিয়ে চলছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা। মাদক তৈরির গোপন ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ কাঁচামাল সহ ১৬ কেজি ৯৯৮ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করল। পাওয়া গিয়েছে নগদ ৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা। ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনই মহিলা, বাকি দু’জন পুরুষ। ধৃতদের মধ্যে অনিতা কুমারী, দীপক কুমার ও গৌরব শাহ বিহারের বাসিন্দা। আরও দুই মহিলা মেহমুদা খাতুন ও মেহবুবা খাতুন ইংলিশবাজারের বাসিন্দা। ধৃতদের মঙ্গলবার মালদহ সিজেএম কোর্টে পেশ করে হেফাজতে নিয়েছেন তদন্তকারীরা। এদিন ঘটনাস্থল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি আইফোন, দু’টি চার চাকার গাড়ি, একটি বাইক সহ মাদক তৈরির প্রচুর উপকরণ।

Advertisement

মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ইংলিশবাজার থানা এলাকার কুমারপুরে বাইরে থেকে কাঁচামাল নিয়ে এসে এখানে ব্রাউন সুগার তৈরি করা হচ্ছিল। তার যথেষ্ট প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র মারফৎ পুলিশ কুমারপুরের ওই গুদামের হদিশ পায়। ইংলিশবাজার ও অন্যান্য থানার বিশাল বাহিনী নিয়ে সোমবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। চারিদিক থেকে গুদামটিকে ঘিরে ফেলা হয়, যাতে কেউ চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে পালাতে না পারে। এরপর তদন্তকারীদের একটি দল গুদামের ভিতর ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ। দেখা যায়, গুদামের মধ্যে সোডিয়াম কার্বোনেট সহ মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল প্রচুর পরিমাণে মজুত করা রয়েছে।

যে এলাকায় এই ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ চলছিল, তার থেকে মাত্র কয়েকশো মিটারের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্ত। স্বাভাবিকভাবে মাদক কারবারে বাংলাদেশের কারবারীদের ভূমিকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা।

মালদহের পুলিশ সুপার আরও জানান, ধৃতদের জেরা করে ব্রাউন সুগার তৈরি ও কারবার সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে মহিলাদের কি ভূমিকা ছিল, সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, এসব ক্ষেত্রে মহিলাদের সাধারণত সন্দেহের বাইরে রাখা হয়।

দায়িত্ব নিয়েই এসপি মাদক ও অস্ত্র কারবার বন্ধ করতে জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেইমতো জেলাজুড়ে টানা অভিযোন শুরু করেছে পুলিশ। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে বিপুল অস্ত্র ও মাদক। পুলিশ সূত্রে খবর, গত এক মাসে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ কেজি ব্রাউন সুগার সহ একশোর বেশি মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ