Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কানা শামিমকে ভাড়া বাড়ি ঠিক করে দেওয়া দালাল শাহেনশা ধৃত

নারায়ণপুরে কানা শামিমের ভাড়া বাড়ির দালাল শাহেনশা গ্রেপ্তার। বিস্ফোরণের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে। বিস্তারিত পড়ুন।

কানা শামিমকে ভাড়া বাড়ি ঠিক করে দেওয়া দালাল শাহেনশা ধৃত
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নারায়ণপুর সুপারিবাগান এলাকায় বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত কানা শামিমকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে, তাকে যে ভাড়া বাড়ি ঠিক করে দিয়েছিল, সেই ব্রোকার তথা বাড়ির দালাল মহম্মদ শাহেনশাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার শামিম ও শাহেনশা দু’জনকেই বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। বিচারক ধৃতদের সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের জেরা করে বিস্ফোরণের কিনারা করতে চাইছে পুলিশ। এই কাণ্ডে আর কারা যুক্ত, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ শামিমের বাড়ি কামারহাটিতে। সে কানা শামিম নামেই পরিচিত। নিজেদের গ্যাংয়ের গন্ডগোলের জেরে সে ২০০১ সাল থেকেই এলাকাছাড়া। জমি-বাড়ির দালাল শাহেনশার সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। তার মাধ্যমেই কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া নারায়ণপুরের সুপারিবাগান এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল শামিম। আজ, সোমবার থেকে ওই বাড়িতে কানা শামিমের থাকার কথা ছিল। গত শুক্রবার সকালে বাড়ি পরিষ্কার করা হয়। রাতে কানা শামিম দুই তরুণকে দিয়ে একটি ব্যাগ পাঠায় ওই বাড়িতে রাখার জন্য। ওই দুই তরুণ দালালের পরিচিত। তারা ব্যাগটি রেখে চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিট পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ওই ব্যাগেই বোমা ছিল। চাঙর ভেঙে পাশের বাড়ির একজন জখম হয়েছেন।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, সিআইডি, বেঙ্গল এসটিএফ এবং এনআইএ। সিআইডির বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দু’টি বোমা উদ্ধার করেন। বেশকিছু নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় সোদপুর থেকে কানা শামিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার ভোররাতে এলাকা থেকে বাড়ির দালাল শাহেনশাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভাড়াটিয়া ঠিক হলে ভাড়া দেওয়ার আগে পুলিশের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যাগে খাবার আছে বলে শামিম দাবি করলেও আসলে তার মধ্যে বোমাই পাঠিয়েছিল সে। কিন্তু, কী কারণে বোমা মজুত করেছিল, তা স্পষ্ট নয়। দালালের কাছেও এই তথ্য ছিল বলে অনুমান। তাই দু’জনকেই জেরা করা হবে। বোমাগুলি কোথায় তৈরি হয়েছিল, কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, কী উদ্দেশ্য ছিল, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। সেই রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে, বোমায় কী ধরনের মশলা ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে, শক্তিশালী রাসায়নিক দিয়েই বানানো বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ