সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বরের বালিগোড়ি ১ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কানা দামোদর নদীর উপর নতুন করে সেতু নির্মাণের শিলান্যাস হল বুধবার। শিলান্যাস করেন তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়। সেতুটি নির্মাণে খরচ পড়বে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বরের বালিগোড়ি ১ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কানা দামোদর নদীর উপর নতুন করে সেতু নির্মাণের শিলান্যাস হল বুধবার। শিলান্যাস করেন তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়। সেতুটি নির্মাণে খরচ পড়বে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
কানা দামোদর নদীর উপর আগের সেতুটির একাংশ ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভেঙে পড়ে। প্রশাসন তখন ওই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। প্রায় ৮৭ বছর আগে, ১৯৩৮ সালে চুন-সুরকি ও ইটের পিলারের উপর কাঠের সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই কাঠের সেতু থেকে জলে পড়ে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যুও হয়। বাম আমলে এরপর তড়িঘড়ি সেই পুরনো পিলারের উপরই ঢালাই সেতু তৈরি করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে হঠাৎ সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। এরপর ভাঙা অংশ পাঁচিল দিয়ে ঘিরে শুধুমাত্র দুই চাকার যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় ১২ ফুট চওড়া ও ৪০ ফুট লম্বা ছিল সেতুটি। ১৯৯০ সালে রাজ্যে ছিল বামফ্রন্ট সরকার ও বালিগোড়ি ১ পঞ্চায়েত ছিল কংগ্রেস পরিচালিত। তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান মণিগোপাল শূর রায় ঢালাই সেতুটি তৈরি করেছিলেন।
বালিগোড়ি, লোকনাথ, বাগবাড়ি সহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। লোকনাথ স্টেশন, তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে হয় এই সেতু দিয়েই। বালিগোড়ি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও রোজ এই সেতুই ব্যবহার করে। এছাড়া চৈত্র ও শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তারকেশ্বর মন্দিরের পুণ্যার্থীদেরও এই ভাঙা সেতুর উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে নতুন করে সেতুটি তৈরি হচ্ছে। দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট, প্রস্থ ২০ ফুট। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা খুব সমস্যায় পড়েছিলেন। এর আগে একবার নতুন করে সেতু তৈরি করতে ১ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দও হয়েছিল। কিন্তু তখন দেখা যায়, ওই অর্থে এই সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী সময় নতুন করে ‘এস্টিমেট’ করা হয়। এই কারণেই দেরি হয় নির্মাণে। সেতুটি তৈরিতে খরচ পড়বে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান হবে। - নিজস্ব চিত্র