Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বোরখায় মুখ ঢেকে বোনের হয়ে পরীক্ষা, হুগলিতে আটক দিদি

বোরখায় মুখ ঢেকে বোনের হয়ে পরীক্ষা, হুগলিতে আটক দিদি
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: অষ্টম শ্রেণিতে মেরেকেটে পাশমার্ক জুটেছিল। নবমের পরীক্ষাতেও তাই। কোনওমতে ছাড়পত্র জুটেছিল মাধ্যমিকে বসার। কিন্তু পাশ করা নিয়ে কোনও ভরসা ছিল না। তাই বোনের বদলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কলেজের প্রথমবর্ষের পড়ুয়া দিদি! আর সেই কাজ করতে ‘সাহায্য’ নেওয়া হয়েছিল বোরখার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যান ওই ভুয়ো পরীক্ষার্থী। সোমবার, পরীক্ষার প্রথম দিনেই এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির চণ্ডীতলার গরলগাছাতে। গরলগাছা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সেজে আসা ওই ভুয়ো পরীক্ষার্থীকে আটক করে চণ্ডীতলা থানার পুলিস। প্রসঙ্গত, গত বছর উত্তরপাড়ার একটি স্কুল থেকে একজন ভুয়ো পরীক্ষার্থীকে পাকড়াও করা হয়েছিল। 
Advertisement
মাধ্যমিক পরীক্ষার হুগলি জেলার কনভেনর দেবাশিস বসু বলেন, ‘বিষয়টি পর্ষদকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্য কৌশিক শীল। তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রী বোরখা পরে এসেছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের পর্যবেক্ষেক তাঁর মুখাবয়ব অ্যাডমিটের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট স্কুলের একজন শিক্ষিকাকে ডেকে আনা হয়। তিনিই নিশ্চিত করেন যে ওই পরীক্ষার্থী ভুয়ো। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, বোনের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন।’ হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা চণ্ডীতলার জনপ্রতিনিধি সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বোনের প্রতি সত্যিকারের স্নেহ থাকলে দিদির উচিত ছিল তাকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বাধ্য করা। এই ঘটনা সার্বিক সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ 
আটক ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে বিষম স্নেহ আর সামাজিক সম্মানের টানাপোড়েনের গল্প। জানা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত ওই ছাত্রীর পরিবার যথেষ্ট সচ্ছল। পরীক্ষা দিতে আসা কলেজছাত্রী একজন মেধাবী পড়ুয়া। বোন পাশ করতে পারবে কি না, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক সম্মান। তাই বোরখার আড়ালে পরীক্ষা দিয়ে বোনকে পাশ করানোর পরিকল্পনা হয়েছিল। পর্ষদ সূত্রে আরও খবর, বোরখা রহস্য উন্মোচনের পরও প্রথমে কিছু মানতে চাননি ভুয়ো পরীক্ষার্থী। প্রথমে তিনি দাবি করেন, নবম শ্রেণিতে ছবি তোলা হয়েছে বলে মুখ মিলছে না। শেষ পর্যন্ত পরিদর্শক থেকে পুলিস, সবার চাপের মুখে ভেঙে পড়েন তিনি। এদিন স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ছাত্রীর মা’কে। তিনি মলিন মুখে বড় মেয়ের হাত ধরে বসেছিলেন। আটক ছাত্রী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলছিলেন, ‘বোনটার কী হবে মা?’ অন্যায় কাজ সত্ত্বেও তাঁর সেই কান্না পুলিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনকে আর্দ্র করে তোলে। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ