Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আবর্জনায় গড়াচ্ছে ব্রিটিশ আমলের কামান, মাটি খুঁড়ে তোলা হয় দু’বছর আগে, হেরিটেজ রক্ষায় চরম অবহেলা

আবর্জনার স্তূপে ঢাকা পড়ে ইংরেজ আমলের কামান। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে তা মাটি খুঁড়ে তোলা হয়েছিল। সেই কামানই পড়ে চরম অবহেলায়।

আবর্জনায় গড়াচ্ছে ব্রিটিশ আমলের কামান, মাটি খুঁড়ে তোলা হয় দু’বছর আগে, হেরিটেজ রক্ষায় চরম অবহেলা
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: আবর্জনার স্তূপে ঢাকা পড়ে ইংরেজ আমলের কামান। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে তা মাটি খুঁড়ে তোলা হয়েছিল। সেই কামানই পড়ে চরম অবহেলায়। স্ট্র্যান্ড রোডে নব মহাকরণে রেলিং ঘেরা জায়গায় জঞ্জালের মধ্যে গত দু’বছর ধরে পড়ে রয়েছে কামানটি। হেরিটেজ নিয়ে প্রশাসন কেন এত উদাসীন, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

ফেয়ারলি প্লেস ও স্ট্র্যান্ড রোডের ফুটপাতে মাটির ভিতরে পোঁতা ছিল কামানটি। জানা গিয়েছে, মেকিনন ম্যাকাঞ্জি বিল্ডিং তৈরির সময় ভিতের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে কামানটির দেখা মেলে। তারপর ফুটপাতের তলাতেই ছিল। অনুমান, ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা আক্রমণ কালে এটি ব্যবহার হয়েছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে ক্রেন দিয়ে কামানটিকে তোলা হয়। এটি শুধু নয়, আরও ১৬টি ঐতিহাসিক কামান উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলি নব মহাকরণের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে অনাদরে। মূল দরজার পাশে রেলিং ঘেরা জায়গায় জঞ্জালের মধ্যে পড়ে আছে ইংরেজ আমলের বেশ কয়েকটি কামান।
জানা গিয়েছে, অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ বিপ্লব রায় ২০১৯ সালে ডেপুটেশনে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেনারেল অ্যান্ড অফিশিয়াল ট্রাস্টি অব গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল নিযুক্ত হন। এক নম্বর কিরণশঙ্কর রায় রোড নব মহাকরণে দপ্তরে যোগ দিয়ে তিনি দেখেন, একতলার রেকর্ড রুমটি বিধানচন্দ্র রায়ের সময় থেকে বন্ধ। রেকর্ড রুম খোলার পর চক্ষু চরকগাছ। প্রচুর ঐতিহাসিক জিনিস রাখা সে ঘরে। মোগল আমলের সনদ, পুরনো অস্ত্রশস্ত্র সহ কয়েক শতাব্দী প্রাচীন জিনিসপত্র রাখা আছে। একটি ট্রাঙ্কের ভিতর রাখা ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জের সোনার বোতাম ও ইউনিফর্ম। আছে সোনার হাতলওয়ালা তরবারি। বিপ্লববাবু এসব নিয়ে মিউজিয়াম তৈরির জন্য সরকারিস্তরে আলোচনা করেন এবং কাজও শুরু করেন। পাশাপাশি রাজ্যের নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম (আর্টিফেক্স) সংগ্রহের কাজও শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৬টি কামান মাটি খুঁড়ে বের করা হয়। আর উত্তর কলকাতায় একটি মিউজিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৫টি বিভাগ থাকত মিউজিয়ামটিতে। কামান ও অ্যান্টিক বন্দুকগুলি নিয়ে প্রথম কক্ষ চালু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে। কিন্তু তা দিনের আলো দেখেনি। বিপ্লববাবুর সংগ্রহ করা শিল্পকর্মগুলি অমূল্য। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে তাঁর বদলির অর্ডার হয়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ির তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক। 
তাঁর বদলির সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত কাজ আটকে যায় বলে অভিযোগ। অফিশিয়াল ট্রাস্টি অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়া প্রায় সিন্দুক বন্দি হয়ে রয়েছে। কামান জঞ্জালের স্তূপে পড়ে থাকা নিয়ে মুখে কুলুপ সেখানকার কর্তাদের। কামান ও অ্যান্টিক বন্দুক বিশেষজ্ঞ অমিতাভ কারকুন বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের খবর। এ কামান ভারতের ইতিহাস। কামান থেকে সেই সময়কার মিলিটারি থ্রেট, বিজ্ঞান, শিল্প ও অর্থনীতির বিষয় জানা যায়। যেমন আগে ব্রোঞ্চের কামান হতো। কাস্ট করতে সহজ হয়। ঢালাই লোহা পরে এসেছে। এই কামানগুলি উদ্ধারের সময় আমি ছিলাম। তার মধ্যে জিপিও থেকে একটি কামান পেয়েছিলাম, যেটির সঙ্গে পুরনো ফোর্ট উইলিয়ামের কামানের মিল পেয়েছি। কলকাতা পুরসভা বা হেরিটেজ কমিশন এগিয়ে আসুক। মাত্র ৩০ ফুট জায়গা পেলেই সংরক্ষণ সম্ভব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ