নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা শহরে ফের ধস। পার্ক স্ট্রিটে বসে গেল রাস্তা। শুরু বিপত্তি। শনিবার রাতে আচমকা ধস নামে পার্ক স্ট্রিটে অ্যালেন পার্কের সামনের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার এক অংশে তৈরি হয়েছে বড় আকারের গর্ত। জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ। দ্রুত পথটি পুরনো অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। তবে পুরসভা কর্তৃপক্ষেরই বক্তব্য, রাস্তার ওই অংশ স্বাভাবিক করতে অন্তত দশদিন সময় লাগবে। সর্বোচ্চ সময় লাগতে পারে দুই সপ্তাহ। অন্যদিকে পার্ক স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ঝস নামায় নাগরিক ভোগান্তির তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রবিবার ছুটির দিন থাকায় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। ফলে পার্ক স্ট্রিটে যানজটের তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু আজ, সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। ফলে অবস্থা কিরকম দাঁড়াবে তার দিকে তাকিয়ে সবাই। পার্ক স্ট্রিট থেকে বহু যানবাহন অ্যালেন পার্কের সামনের রাস্তায় প্রবেশ করে। সেখানে ধস নামার ফলে ভোগান্তির তীব্র আশঙ্কা।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ন’টা নাগাদ অ্যালেন পার্কের সামনের সিগন্যালের জায়গায় আচমকা ধস নামে। বড় আকারের গর্ত তৈরি হয়। ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে মোড়ের মাথায় তৈরি হয় বিরাট আকারের গর্ত। রাতে পুরসভার দুই আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ধস পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। রাস্তায় সে সময় গাড়ির সংখ্যা কম ছিল। ফলে বড়সড় বিপত্তি ঘটেনি। জানা গিয়েছে, রাস্তার ওই অংশে আগে একটি ছোট আকারের গর্ত তৈরি হয়েছিল। ধস নেমেছিল ছোট জায়গায়। সেটি পিচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে কৌশলে কাজ হয়নি। সম্ভবত টানা বৃষ্টির জেরেই পিচের আবরণ ভেঙে যায়। ফলে তৈরি হয় বড় আকারের গর্ত। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তার নীচে ব্রিটিশ আমলের ভূগর্ভস্থ ইটের তৈরি নিকাশি নালা আছে। তার উপরের অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে বিপত্তি ঘটেছে। সে কারণেই ধস নেমেছে। নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ইটের নিকাশি নালার একটি ছিদ্র থেকে জল বেরিয়ে মাটি নরম হয়ে যায়। ফলে মাটি বসে যাওয়ার জেরে রাস্তায় গর্ত তৈরি হয়। তবে দ্রুত মেরামত করা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে নালার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ইট দিয়ে ঘিরে কংক্রিট করতে হবে। উপরে বানানো হবে স্ল্যাব। এ কাজ করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে। তবে সঙ্গে সঙ্গে তার উপর আবার রাস্তা বানানো যাবে না। কারণ উপর থেকে চাপ পড়লে ফের ভেঙে যেতে পারে। তাই নিকাশির কাজ পুরোপুরি শেষ করতে অন্তত আট থেকে দশ দিন সময় লাগবে। তারপর রাস্তা সারাইয়ের কাজ হবে।